রোববার   ০১ আগস্ট ২০২১ || ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮ || ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

একবছরে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬.৮৮ শতাংশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

১৮:৫১, ১৬ জুন ২০২১

আপডেট: ১৮:৫৮, ১৬ জুন ২০২১

১৪৬

একবছরে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬.৮৮ শতাংশ

একবছরে দ্রব্য ও সেবার মূল্যের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে । ২০২০ সালে দেশে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এই সময় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা-সার্ভিসের মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বুধবার (১৬ জুন) ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রকাশিত বার্ষিক জরিপ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবা-সার্ভিসের মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী এবং ১৪টি সেবা-সার্ভিসের সংগৃহীত মূল্য পর্যালোচনা করে এই তথ্য পেয়েছে ক্যাব। এই হিসাবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। পণ্য ও সেবামূল্য বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। ২০১৮ সালে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক শূন্য শতাংশ ও ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে

চাল, আটা ও ডাল

ক্যাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে চালের গড় মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

আটার মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। দেশি ও আমদানিকৃত ডালের দাম গড়ে বেড়েছে ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। দেশি মসুর ডালে ২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, আমদানিকৃত মসুর ডালে ৪৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং খেসারির ডালে দাম বেড়েছে ২৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

তেল, চিনি ও গুড়

ভোজ্যতেলের দাম গড়ে বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এর মধ্যে খোলা পাম অয়েলে ১৭ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। চিনি ও গুড়ের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ।

শাক-সবজি

একবছরে শাকসবজির মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে করল্লায় ৩৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, কাঁচা পেঁপে ৩১ দশমিক ১৬ শতাংশ, দেশি আলুতে ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং আলুতে (হল্যান্ড) বেড়েছে ২৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

মাছ, মাংস ও ডিম

২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে গরু ও খাসির মাংসের দাম বেড়েছে গড়ে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মুরগির দাম ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ আর ডিমের দাম গড়ে বেড়েছে ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। মাছের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। গড়ে গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বাসা ভাড়া

নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের গড় বাড়িভাড়া বেড়েছে গড়ে ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ফ্ল্যাট বাসায় ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বস্তিতে ঘরভাড়া বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। মেসের ৮ সিটবিশিষ্ট রুমের ভাড়া বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। 

যেসব পণ্যের দাম কমেছে

এই সময় ১৫টি পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে সরিষার তেলের দাম প্রতি কেজিতে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, ডালডাতে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং খোলা আটায় কমেছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ।

আমদানিকৃত মটর ডালের মূল্য কমেছে কেজিপ্রতি ১৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ আর দেশি মটর ডালে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। শাকসবজির মধ্যে পটলের দাম প্রতি কেজিতে ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ, শসা/খিরার মূল্য কমেছে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। বেগুনে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, মুখিকচুতে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে।

যেসব পণ্য ও সেবার মূল্য স্থিতিশীল অথবা অপরিবর্তিত ছিল

২০২০ সালে লবণ, চা-পাতা, দেশি-বিদেশি কাপড়, গেঞ্জি, তোয়ালে ও গামছার দাম অনেকটাই স্থিতিশীল ছিল। অন্যদিকে সব ধরনের জ্বালানি তেল ও চুলার গ্যাসের মূল্য অপরিবর্তিত ছিল।

জীবনযাত্রার ব্যয় লাগামহীন হয়ে পড়া ঠেকাতে ক্যাব সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ভোক্তার স্বার্থ সার্বিকভাবে দেখা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে সমন্বয় করার জন্য একক কোনো মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে নেই। সরকার প্রতিনিয়ত নানা সিদ্ধান্ত নেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারের সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা বিবেচনায় আসে না।

এই সংকট এড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্দেশ্যে তিনি ১৫ থেকে ২০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব অর্পণ করে দেশে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন করার পরামর্শ দেন। 

Dutch-Bangla Bank
TELETALK
বিশেষ সংবাদ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত