বৃহস্পতিবার   ১৩ জুন ২০২৪ || ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ || ০৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ৩১

খ ম হারূন

১২:০৯, ১৭ জুন ২০২১

আপডেট: ১৬:২১, ১৭ জুন ২০২১

১২৯৫

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ৩১

শঙ্কিত পদযাত্রা

ধারাবাহিক আত্মকথা

। খ ম হারূন ।

খ্যাতিমান টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব খ ম হারূন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন দেশের টেলিভিশন এবং মঞ্চের সাথে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্বর্ণময় সময়ে যে কয়েকজন নির্মাতা-প্রযোজকের নাম ছোট পর্দার কল্যাণে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে খ ম হারূন তাদের একজন। দীর্ঘ বর্ণিল ক্যারিয়ারে অসংখ্য উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন তিনি। এখনো রয়েছেন সমান সক্রিয়। দেশের গণমাধ্যম জগতের বরেণ্য এই ব্যক্তিত্বের আত্মকথা ‘শংকিত পদযাত্রা’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে অপরাজেয় বাংলা’য়।
 
[পর্ব-৩১]

মার্টিনের সাথে এভাবে আবার দেখা হয়ে যাবে ভাবিনি। ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার যখন দক্ষিন কোরিয়া যাই দশ সপ্তাহের জন্য, তখন সিওলের ইউয়োডো হোটেলের চারতলায় আমার রুমমেট ছিলো সে। মার্টিন এসেছিলো দক্ষিণ আমেরিকার গায়ানা থেকে। জর্জটাউনের বাসিন্দা। গায়ানা ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং অথোরিটির একজন কর্মকর্তা। একসময় সেখানকার ক্রিকেট টিমে খেলেছে সে। দেখতে অনেকটা ভারতীয়। সে নিজ থেকেই জানিয়েছিলো তার পূর্বপুরুষ ভারত থেকেই গিয়েছিলো দক্ষিন আমেরিকায়। তবে সে, তার বাবা বা তার বাবার বাবা কখনো ভারত উপমহাদেশ ভ্রমণ করেনি।

কোরিয়াতে এসেছিলাম আন্তর্জাতিক সম্প্রচার ওয়ার্কশপে, যা পরিচালনা করার দায়িত্ব ছিলো কেবিএস-এর উপর। কেবিএস (Korean Broadcasting System) একটি রাষ্ট্রিয় সম্প্রচার মাধ্যম। দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন শহরে কেবিএস এর চ্যানেল আছে। সেসময় কেবিএস ছাড়াও আরেকটি কোরিয়ান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ছিলো, এমবিসি, যেটি ছিলো বেসরকারি একটি সংস্থা। কেবিএস এবং এমবিসি দুটো মাধ্যমের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিলো অনেক। নানা বৈচিত্রপূর্ণ অনুষ্ঠান উপহার দিত দর্শকদের জন্য। সেখানে উপস্থিত থেকে কাজ শেখার এই সুযোগ পরবর্তিতে আমার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছিলো। সেসময় কেবিএস-এর জন্য আমি একটি ডকুমেন্টারিও তৈরী করেছিলাম, বিষয়- কোরিয়ান মাস্ক থিয়েটার, যা পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনেও দেখানো হয়েছিলো। কেবিএস এবং এমবিসি ছাড়াও সেখানে আরো একটি টিভি নেটওয়ার্ক ছিলো, এএফকেএন (American Forces Korean Network), যা পরিচালনা করতো দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাবাহিনী। খবর পড়তো সেনা, নৌ বা বিমান বাহিনীর সদস্যরা। বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও তারা প্রযোজনা করতো। কিছু অনুষ্ঠান নিজ দেশ থেকেও নিয়ে আসতো। ইংরেজি ভাষার এই চ্যানেলটি আমরা অনেকেই দেখতাম। আমাদের হোটেলের দুটি ফ্লোর বরাদ্দ থাকতো আমেরিকান সেনাবাহিনীর জন্য। শনি ও রবিবার সিওলে সাদা পোষাকে প্রচুর আমেরিকান বাহিনীর সদস্যদের দেখা যেতো, তাদের জন্য আলাদা ট্যাক্সি সার্ভিস ছিলো, যা অন্য কোনো নাগরিক ব্যবহার করতে পারতো না। 

কেবিএস-এ নানা বিষয়ের মধ্যে আমাদের কাজ চালানোর মতো কোরিয়ান ভাষা শিখতে হয়েছিলো। ক্লাস নিতেন এ্যালি ইউন নামে একজন কোরিয়ান মহিলা। ত্রিশের কাছাকাছি বয়স। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করেছেন। ভাষা শিক্ষা ছাড়াও এ্যলি বিভিন্ন ক্লাসে দোভাষীর কাজও করতেন। আমাদের ওয়ার্কশপে ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ছিলো যারা এসেছিলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। দক্ষিন আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের টেলিভিশন প্রযোজক ও সম্প্রচার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছিলো। 

আমি সিওলে পৌঁছেই যোগাযোগ করি আমার বন্ধু এমবিসির প্রকৌশলী জুনের সাথে। সে প্রায়ই এসে আমাকে গাড়ি করে নিয়ে যেতো বিভিন্ন এলাকায়। জুনের সাথে আমার দেখা হয়েছিলো মালয়েশিয়াতে এআইবিডি’র দুটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে। ১৯৮৩ এবং ১৯৮৮ সালে, দুবারই সে এসেছিলো। সে খুব ভালো ছবি তুলতো। কুয়ালালামপুর থেকে সে আমাকে একটি ক্যামেরা কিনে দেয়, পরবর্তিতে যা আমি ব্যবহার করেছিলাম অনেকদিন। জুন আমার কাছে জানতে চেয়েছিলো বাংলাদেশের হাতির কথা। সে হাতির ছবি তুলতে চায়। এই বিশাল প্রাণীটি সম্পর্কে তার অনেক আগ্রহ। আমি এই সুযোগে তার কাছে গল্প করেছিলাম হাতির বিশাল আকৃতির ডিম সম্পর্কে। সে খুব আগ্রহি হয়ে জানতে চেয়েছিলো হাতির ডিম দিয়ে কি অমলেট বানানো যায়? আমি চেপে গিয়েছিলাম। সিওল আসার পর দেখি সে হাতির ডিমের কথা মনে রেখেছে। সিওল থেকে যখন ঢাকা ফিরে আসি তখন আমি তাকে হাতির ডিম বলে যে কিছু নেই সেটা পরিস্কার করে দিয়েছিলাম। 

মার্টিন আর আমি প্রায় বিকেলেই ঘুরতে বের হতাম। পাকিস্তানের আসগর এবং ওমানের আলী ছিলো অত্যন্ত দুষ্টু প্রকৃতির। সব সময় সবাইকে মাতিয়ে রাখতো। মেয়েদের কাছে ঘেষার চেষ্টা করতো। কিন্তু মেয়েরা কেনো যেনো  সবসময় তাদের এড়িয়ে চলতো। এনিয়ে তাদের দুঃখের শেষ ছিলোনা। মদ্যপানে তাদের আসক্তি ছিলো। মিশর থেকে এসেছিলো আহমাদ। সে টিভিতে চাকুরীর পাশাপাশি থিয়েটার দলের সদস্য ছিলো। আইটিআই ইজিপ্টের সদস্য। তখন আমিও আইটিআই বাংলাদেশের সদস্য। সুতরাং আহমাদের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। নাটক নিয়ে অনেক আলাপ করতাম তার সাথে।

দক্ষিণ কোরিয়াতে পরবর্তিতে আরো গিয়েছি ২০১৭ ও ২০১৮ সালে। কিন্তু সেই ১৯৮৯ সালের স্মৃতিগুলো এখনো জীবন্ত। পরবর্তি সময়ে সিওলের অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। তবে প্রথম দেখা সেই সিওল তখন আমার কাছে পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর শহর। মানুষগুলো প্রচণ্ড পরিশ্রমী এবং সকল কাজের মাঝে ছিলো সৌন্দর্যে রক্ষার প্রচেষ্টা। রাস্তার দুদিকে ফুলের গাছ। বড় গাছগুলির গায়ে চট বা কম্বল লাগানো। তখন শীতকাল। অতিরিক্ত শীত থেকে গাছগুলো যেন রক্ষা পায়। রাস্তার পাশের রেষ্টুরেন্টগুলোতে ঢুকতে পারতাম না, নানা ধরনের জীব (কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর থেকে অজগর পর্যন্ত) ঝুলানো থাকতো খাদ্যরসিকদের আকর্ষণ করার জন্য। আমরা মুখে রুমাল দিয়ে সে সব স্থান দ্রুত পার হতাম। আঠাশ বছর পর আবার যখন সিওল যাই তখন রেষ্টুরেন্টগুলোতে এইসব দৃশ্য আগের মতো চোখে পরেনি। 

এই যখন অবস্থা, খাবারের কষ্ট, তখন কোরিয়ান বন্ধু জুন আমাদের হোটেলের কাছে একটা রেষ্টুরেন্টের সন্ধান দেয়, যেখানে চিকেন এবং নানা ধরনের রুটি পাওয়া যেতো। সাধারনত ঐ রেষ্টুরেন্টেই রাতের খাবার সারতাম। ঢাকা থেকে আসার সময় আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু সৈয়দ মাহমুদুল হক একটা নাম্বার দিয়েছিলো সিওলে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মনজুর রহিম এর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। আমাদের তিন বছরের সিনিয়র সম্ভবত। এমএ সম্পন্ন করার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর বিসিএস দিয়ে ফরেন সার্ভিস পান। একদিন আমি নিজ থেকে সিওলের কোরিয়ান দূতাবাসে ফোন করলাম। মনজুর রহিম নিজেই ফোন রিসিভ করলেন। সম্ভবত সৈয়দ মাহমুদুল হক আগেই আমার কথা বলে রেখেছিলো। মনজুর ভাই ঐ দিন বিকেলে এসে আমাকে তার বাসায় নিয়ে যান। এর পর প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় তার বাসায় যেতে হতো। নিজ দেশের খাবার খেয়ে গভীর রাতে হোটেলে ফিরে আসতাম। মনজুর ভাই, ভাবী এবং তাদের সন্তানসহ কিছু ভালো সময় কাটতো সেখানে। মনজুর রহিম পরবর্তি সময়ে জার্মানীর রাষ্ট্রদূত হয়েছিলেন। 

বেশ আনন্দেই দিন কেটে যাচ্ছিলো। এর মাঝে লক্ষ্য করলাম আমার রুমমেট মার্টিন কেমন যেনো হয়ে যাচ্ছে। ক্লাসের পর কোথায় যেনো চলে যায়। অনেক রাতে ফিরে আসে। আমি ঢাকা থেকে যাবার সময় জাপানের ভিসাও নিয়ে গিয়েছিলাম। বুসান থেকে জাহাজে করে যাওয়া যেতো। আমি ও মার্টিন কোনো এক উইক এন্ডে যাবো দুদিনের জন্য এ রকম পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু মার্টিন হঠাৎ জাপান যাবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। একদিন বিকেলে সে হঠাৎ এ্যালিকে নিয়ে আমার রুমে উপস্থিত হয়। এ্যালি এবং মার্টিন দুজনকে দেখেই বুঝতে পারি কিছু একটা ঘটেছে তাদের মধ্যে। মার্টিন বিবাহিত ছিলো। তার একটি ছেলে আছে। ছেলের জন্মের কিছুদিনের মধ্যে তার স্ত্রী মারা যায়। তাই হয়তো সে একটু চুপচাপ স্বভাবের হয়ে গিয়েছিলো। এখন সে নাকি এ্যালির মধ্যে সে তার প্রয়াত স্ত্রীর ছায়া খুঁজে পেয়েছে। 

এর মাঝে কেবিএস থেকে আমাদেরকে বাসে করে বুসান নিয়ে যাওয়া হয় চারদিনের জন্য। বাস আমাদেরকে নিয়ে বুসানের একটি হোটেলের সামনে দাঁড়ায়। যেখানে আমরা থাকবো। বাস থেকে নামার সাথে সাথে সেখানে দেখি এ্যালি। অধীর আগ্রহে সে দাড়িয়ে আছে হোটেল গেটে। এ্যালি আগেই সিওল থেকে বুসান চলে এসেছে মার্টিনের জন্য, আমরা বুঝতে পারলাম। সবাই খুব আনন্দের সাথেই তাদের সম্পর্ককে গ্রহণ করলো। আফ্রিকান জর্জ ও মেরী ওদের ধরে নিয়ে গেলো বুসানের প্রসিদ্ধ নাইট ক্লাবে। 

দেখতে দেখতে দশ সপ্তাহ হয়ে গেলো। মনজুর রহিম ভাই ও ভাবীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসলাম এক সন্ধ্যায়। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর কিভাবে যে পার হয়ে গেলো। মার্টিনকে জিজ্ঞাসা করলাম, তার ফ্লাইট কবে। বললো, আরো দিন দশেক সে থাকবে, এ্যালি তার জন্য কিছু প্রগ্রাম তৈরী করে রেখেছে। আপাতত কয়েকদিন তারা এই হোটেলেই থাকবে। ১৭ নভেম্বর এ্যালি তার জন্মদিনের কেক কাটলো মার্টিনকে নিয়ে। খুব আনন্দ হলো। একইসাথে বিষাদের ছায়া। পরদিন ওয়ার্কশপের শেষ দিন। সার্টিফিকেট দেয়া হবে ওয়ার্কশপে অংশগ্রহনকারী সবাইকে। 

নভেম্বরের ১৯ তারিখ। প্রচন্ড শীত। বন্ধুরা যার যার মতো এয়ারপোর্টে যাচ্ছে। কেবিএস এর গাড়ি নিয়ে আমাদের প্রশিক্ষক মিসেস কিম মিসরের আহামাদ এবং আমাকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিলেন। আমরা দুজনই ব্যাঙ্ককে দুদিন থেকে যার যার দেশে ফিরবো। সিওলে সেদিনই প্রথম স্নোফল দেখলাম। বাড়ির ছাদগুলো আস্তে আস্তে শুভ্ররূপ ধারন করছে। পরনে তখন ওভারকোট আর মাথায় উলেন টুপি। 

এপ্রিল ২০০৯, আমি বিটিভির উপ মহাপরিচালক পদে কাজ করি। ঢাকার চায়না দূতাবাস থেকে কাউন্সিলর লিউ সানজিন এবং দূতাবাসের কালচারাল এ্যটাচে সুবর্ণা একদিন বিটিভিতে আমার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে আসলেন। এর আগে লিউ সানজিন আমাকে চীনে পাঠিয়েছিলেন ২০০৬, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে। চীনের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখেছি। চায়না রাষ্ট্রিয় টেলিভিশন সিসিটিভির সৌজন্যে বেশ কিছু ডকুমেন্টারিও তৈরি করেছি। এবারও আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজধানী বেইজিং এবং দক্ষিন চীনে হায়নান প্রদেশের রাজধানী সানিয়াতে একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া সম্মেলনে অংশগ্রহনের জন্য। ম হামিদ তখন আরটিভির সিইও। তিনিও আমন্ত্রিত। অতএব দুজন একসাথে গেলাম কুনমিং হয়ে বেইজিং।

বেইজিং পৌঁছেছি ১৩ তারিখ রাতে। সম্মেলনের উদ্বোধন ১৫ এপ্রিল। ১৪ তারিখ ছিলো পহেলা বৈশাখ। এসময় ঢাকায় থাকলে কতো অনুষ্ঠানে যাওয়া যেতো। হামিদ ভাই আর আমি ব্রেকফাস্ট করার পর রাজধানী ঘুরতে বের হবার পরিকল্পনা করলাম। গত রাতে মোবাইল সিম নিয়েছিলাম এয়ারপোর্ট থেকে, তারপর ম্যাসেজ করে চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনালের চীনা প্রযোজক রুবীকে বেইজিং এ পৌঁছানোর কথা জানাই। সে সুবর্ণার আগে ঢাকায় চীনের কালচারাল এ্যাটাচে ছিলো। সকালেই রুবীর ফোন। সে খুব সুন্দর বাংলা বলে। প্রথমেই  শুভ বাংলা নববর্ষ জানালো, তারপর বললো সে এবং বাংলা বিভাগের পরিচালক আনন্দি সিআরআই অফিসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা যেনো চলে আসি। সে একটা ইন্টারভিউ নিতে চায়। সিআরআই অফিসে যেয়ে দেখলাম সেখানে বাংলা নববর্ষের এক সুন্দর আবহ বিরাজ করছে।

পরদিন আমাদের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন। দু সপ্তাহের আয়োজন। সেমিনার, ওয়ার্কশপ ছাড়াও আমাদের যেতে হবে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রে। চীনে বিশ্বের বৃহত্তম সম্প্রচার মাধ্যমের সাথে আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে। বিশাল হলে চীনের রাষ্ট্রীয় রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র প্রশাসন (SARFT) এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। এই রাষ্ট্রিয় সংস্থা  চীনের প্রায় চার হাজার টিভি চ্যানেল, তিন হাজারের উপর রেডিও চ্যানেল এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

হোটেল থেকে বের হয়ে হাটতে হাটতে আমরা সুসজ্জিত হল ঘরের দিকে যাচ্ছি। আমার সামনে ম হামিদ সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি। ডান পাশে একজন। ভারতীয় ভেবে তার সাথে যখন আলাপ শুরু করেছি - সে হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো ‘ওহ হারূন, ইউ আর হিয়ার!’ আমরা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরলাম। ১৯৮৯ থেকে ২০০৯, কুড়ি বছর পর আবার দেখা। এরপর সারাক্ষন এ গল্প সে গল্প। একসময়ে এ্যালির কথাও জিজ্ঞাসা করলাম। মার্টিনের চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে লাগলো। 

চলবে...

আগের পর্ব পড়ুন

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ৩০

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২৯

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২৮

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২৭

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২৬

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২৫

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২৪

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২৩

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২২

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২১

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২০

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ১৯

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ১৮

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ১৭

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ১৬

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ১৫

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ১৪

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ১৩

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ১২

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ১১

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ১০

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ৯

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ৮

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ৭

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ৬

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ৫

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ৪

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ৩

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব ২

ধারাবাহিক আত্মকথা । শংকিত পদযাত্রা । খ ম হারূন । পর্ব 

Kabir Steel Re-Rolling Mills (KSRM)
Rocket New Cash Out
Rocket New Cash Out
bKash
Community Bank