রোববার   ০১ আগস্ট ২০২১ || ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮ || ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

এইসব পড়া আর লেখা ৫

স্বপ্নে পাওয়া, গ্রাহাম গ্রীন, সৈয়দ মুজতবা আলী ইত্যাদি... 

মালেকা পারভীন

০৯:৫১, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১৩:৪৮, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

৫৫৩

এইসব পড়া আর লেখা ৫

স্বপ্নে পাওয়া, গ্রাহাম গ্রীন, সৈয়দ মুজতবা আলী ইত্যাদি... 

এরকম আমার ক্ষেত্রে বহুবার হয়েছে যে, কোন একটি ঘটনা বা বিষয় নিয়ে আমি ভাবছি, একটি বই বা লেখা পড়তে গিয়ে বিশেষ কোন ধারণা বা ঘটনা বা চরিত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সেই ব্যাপারে বুঁদ হয়ে আছি, এরপর দেখা যাচ্ছে, আপাত কোন কার্যকারণ ছাড়াই পরপর একই ধরনের বিষয়ের মুখোমুখি হতে শুরু করেছি বিভিন্নভাবে। আর আমি বিস্ময়ে,আনন্দে,উত্তেজনায়,কিছুটা আশঙ্কায়ও,আশ্চর্যান্বিত-অভিভূত-উদ্বেলিত হয়ে জীবনের অপার রহস্য অনুসন্ধানের চেষ্টায় ব্যাপৃত হয়েছি। বলাই বাহুল্য,কিছুই আবিষ্কার করতে পারিনি আজ পর্যন্ত।কেবল এ ধরনের প্রত্যেক অভিজ্ঞতার পর নিজের মনের কাছে স্বগক্তি করেছি,খোঁজা মিছে এ জীবনের আলো-ছায়ার উৎস কোথায়!

ব্যাপারটিকে আমি যথারীতি লিটারারি এসোসিয়েশন বা সাহিত্যিক যোগাযোগ বলে অভিহিত করতে চাই। কারণ, এ সমস্ত ঘটনার অধিকাংশই বিশ্বসাহিত্যের বিবিধ বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত, যেহেতু, আমার ধ্যান-জ্ঞান বা চেতন-অবচেতন-অর্ধচেতনের সবটুকু স্থান জুড়েই সাহিত্যের মায়াজাল ছড়ানো-বিছানো। আর অবচেতনের কথা যেহেতু এসেই গেলো, তার পথ ধরে স্বপ্নের অলীক-ছায়াময় জগৎ থেকে ঘুরে আসার একটি মোক্ষম উপলক্ষ্য তৈরি হলো বৈকি! 

বলতে বলতেই সাহিত্যের যোগাযোগের একটি দারুণ দৃষ্টান্ত সামনে এসে উপস্থিত হয়ে গেলো দেখছি। আমার এই লেখার মূল পটভূমি স্বপ্নসংক্রান্ত বিষয় ঘিরেই আবর্তিত। লিখতে লিখতে একসময় সেখানে গিয়ে ঠিকঠাক হাজির হয়ে যাবো আশা করি। স্বপ্ন নিয়ে যা বলছিলাম, রহস্যাবৃত মানব জীবনের অন্যতম ব্যাখ্যাতীত একটি প্রক্রিয়া এই স্বপ্ন যেটি নিয়ে যুগে যুগে মনোবিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের পণ্ডিত ব্যক্তিগণ তাঁদের ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনার পরিস্ফুটন ঘটিয়েছেন; বলে গেছেন মানুষ কেন স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন দেখে এই প্রশ্নসহ স্বপ্নের ঘোরলাগা জগৎ নিয়ে তাঁদের নিজস্ব ধারণা-ব্যাখ্যা অথবা পর্যবেক্ষণ।
 
যা হোক, স্বপ্নের কার্যকারণ বা মনস্তত্ত্ব আমার লেখার মূল বিষয়বস্তু নয়। আমি লিখতে চেয়েছি, বেশ কিছুদিন ধরে অবশ্য, বিভিন্ন সময় ঘুম-ঘোরে-বিভোরে স্বপন-ভুবনে ঘুরে আসার যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়, সেগুলোকে গল্পের আকারে ধরে রাখার বিষয়ে। স্বপ্নে দেখা ঘটনা নিয়ে আগেও কিছু লেখা লিখেছি। অনেকের লেখা পড়ে জেনেছি, তারাও তাদের বিভিন্ন সময়ের স্বপ্নজাত ঘটনা কেন্দ্র করে নিজস্ব লেখা লিখেছেন। ‘স্বপ্নে পাওয়া’ নানাবিধ সমস্যার সমাধান নিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস বা (কু) সংস্কার ঘিরে হাস্যরসের, ক্ষেত্রবিশেষে ট্র্যাজিক, ব্যাপারটির সাথে আমাদের কম-বেশি সবারই পরিচয় আছে। কাজেই খোয়াবনামার এই চর্চা বা প্রচলন একেবারে আনকোরা কোন বিষয় নয়। 

আমার জন্য নতুন হলো আজই এ বিষয়ে একজন বিখ্যাত লেখকের একটি চমৎকার বইয়ের তথ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া। সম্ভবত এর আগে বইটির নাম শোনা হয়নি বা এর অস্তিত্ব জানা ছিল না বা জেনে শুনে থাকলেও আজকের মতো এভাবে মনে দাগ কেটে যায়নি। দাগ কাটার কারণ নিশ্চিতভাবেই স্বপ্নসংক্রান্ত ব্যাপারে একই সময় একই কিসিমের ভাবনায় নিমগ্ন থাকা। বইটির নাম, ‘এ ওয়ার্ল্ড অফ মাই অউন: এ ড্রিম ডায়েরি’। রচয়িতা বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক গ্রাহাম গ্রীন। লেখকের ইচ্ছা অনুসারে তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়েছিল ছোট আকারের স্বপ্নলিপিটি। শেষ জীবনে গ্রীন নিয়মিতভাবে তাঁর স্বপ্নগুলো জার্নালে লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। এরকম অসংখ্য স্বপ্নগাঁথা থেকে বাছাইকৃত কিছু মজার আর চমকপ্রদ কাহিনী দিয়ে সাজানো বইটিতে লেখকের সেই সমস্ত স্বাপ্নিক অভিযান আর অভিসারের গল্প উঠে এসেছে যেগুলো ঘটেছে পারিপার্শ্বিক সাধারণ দুনিয়ার বিপরীতে তাঁর ‘একান্ত নিজস্ব জগতে’। প্রকৃতপক্ষে, গ্রীন এর এক ধরণের মুগ্ধতা ছিল স্বপ্নের জগত নিয়ে, এক প্রকার আত্মজীবনী হিসেবে এর কার্যকারিতা আর লেখালেখিতে অবচেতন এর ভূমিকা নিয়ে। বইটি সংগ্রহ করে পড়তে শুরু করেছি। দেখা যাক, গ্রীন এর স্বপ্নের দুনিয়া থেকে কী ধরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারি। 
    
বেশ কয়েক মাস আগে, বছরও হতে পারে, (এখন মাস-বছরের হিসাব রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে! অথচ একটা সময় দিন-ক্ষণের পুঙ্খানুপুঙ্খ উল্লেখ করে পরিচিতজনদের অবাক করে দিতে পারতাম অনায়াসে!) একদিন বাংলা মোটরের কাছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাততলায় অবস্থিত বাতিঘর বইয়ের দোকানে গিয়েছিলাম। সেবারই প্রথম যাওয়া বাতিঘরে। বহু বছর আগে খুলনা থেকে ঢাকায় এসে একবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে গেলাম। সেটাও প্রথম এবং ওই একবারই। অনেক বছরের ব্যবধানে একই জায়গায় গেলেও তেমন কিছুই মনে করতে পারলাম না। শুধু গলিতে ঢোকার রাস্তাটা ব্যতীত।
 
যা হোক, লিফটে বোতাম চেপে উঠে গেলাম বাতিঘরের প্রবেশদ্বারে। বেশিরভাগ সময়ের মতো বই কিনতে একাই গিয়েছি। উদ্দেশ্য বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত আমার সব সময়ের প্রিয় লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর এগারো খণ্ডের রচনা সমগ্র দেখা বা কেনা। এর আগে শাহবাগে পাঠক সমাবেশে এক সন্ধায় একজন সিরিয়াস পাঠিকার (হয়তো আমারই মতো) দর্শন পেয়েছিলাম। মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া (অনুমানের ওপর) মেয়েটি এগারো খণ্ডের মুজতবা আলী সমগ্রটি পাঠক সমাবেশের বিক্রয় কর্মীদের সাহায্য নিয়ে খুবই স্মার্টলি এবং দারুণ সহজ সৌন্দর্য সৃষ্টি করে চমৎকার মোড়কে মুড়িয়ে নেবার ব্যবস্থা করছিল। যেহেতু, আজকাল খুব কম মানুষকেই এই মাত্রার আগ্রহ আর যত্ন নিয়ে বই কিনতে আর উপহার দিতে দেখি, স্বাভাবিকভাবে আমি বেশ উৎসুক হয়ে, দরকার মতো খানিকটা আড়চোখে, তাদের কর্মকাণ্ড খেয়াল করছিলাম।
 
এ প্রসঙ্গে পাঠক সমাবেশ প্রাঙ্গনেই ঘটা আরেকটি চমৎকার অভিজ্ঞতার কথা না বলে পারছিনা। ভেবেছিলাম, কোন একটা লেখায় বিষয়টা উল্লেখ করে রাখবো। আজ যখন উপলক্ষ্য এসে গেলো তখন আর দেরি করা ঠিক হবে না। কারণ, আর কিছুদিন পরেই আমি বইকেনা সংক্রান্ত এমন অসাধারণ একটি ঘটনার কথা বেমালুম ভুলে যাবো যেমন করে ভুলে গেছি লিখতে চাওয়া এ ধরণের আরও অসংখ্য অভিজ্ঞতার বয়ান, কাজ আর অকাজের চাপে। 
 
সেদিনও অফিসফেরত পথে পাঠক সমাবেশে বই কিনতে ঢু মেরেছি। বই কিনে বের হয়ে আসার সময় কাউন্টারে জমা দেওয়া ব্যাগ নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছি। সামনে বইভর্তি ছোট আকারের বেশ কয়েকটা কার্টন। ভাবলাম, দোকানে নতুন বই এর ডেলিভারি এসেছে। আগ্রহ নিয়ে একটু উঁকি দিতেই চোখে পড়লো অরুন্ধতী রায়ের ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’সহ আরো বেশ কিছু নাম জানা/পড়া বই কার্টনগুলির ভেতরে চুপচাপ পাশাপাশি বসে আছে। মুখ আর বন্ধ রাখা কঠিন হয়ে গেলো আমার জন্য। সামনের লোকটিকে জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম, বইগুলো নতুন এসেছে কিনা সে ব্যাপারে। তিনি আমাকে জবাবে যা বললেন তা শোনার জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। তবে যা শুনলাম, তাতে আক্ষরিক অর্থেই মনে হলো, আমার কানে কেউ মধু ঢেলে দিলো আর আমার সমস্ত মন-প্রাণ এক অদ্ভুত ব্যাখ্যাতীত আনন্দে উপচে পড়তে লাগলো। পাঠক সমাবেশের সেই কর্মী আমাকে হাসিমুখে জানালেন, “না, ম্যাডাম, এগুলা রাজবাড়ির ডিসি ম্যাডামের অর্ডার করা বই। উনি কিছুদিন পরপর এরকম বই নিয়ে যান। এগুলা আমরা এখন কুরিয়ারে পাঠায় দিবো।” 

কুরিয়ারে পাঠানোর বিষয়টা আমার ঠিক পুরোটা মনে নেই। তবে বাকি কথাগুলো মোটামুটি একইরকম ছিল। আমি বিস্ময়ভরা আনন্দে-খুশিতে অভিভূত হয়ে পাখির মতো পাখা মেলে ভেসে ভেসে দোতলার সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে নেমে এসেছিলাম সেদিন। একজন মানুষ এতো ভালোবেসে বই সংগ্রহ করতে পারে জেনে সেদিন আমার নিজেকে ভীষণ সুখী মনে হয়েছিল। কারণ, আমিও যে তার মতোই একজন। এই মনস্তত্বের আর কোন ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। ভেবেছিলাম, রাজবাড়ির ডিসির নামটা জেনে রাখবো। যা হয়, তা আর হয়ে উঠেনি। সেই চমকপ্রদ অভিজ্ঞতার কথা সেদিনের পরপরই লিখতে চেয়েছিলাম। যথারীতি যা হয়, তাও হয়নি। দেরিতে হলেও ভালো, তবু শেষ পর্যন্ত আজ লেখা হলো। আর এই সামান্য বর্ণনার মধ্য দিয়েই অপরিচিত সেই একনিষ্ঠ পাঠিকার প্রতি আমি আমার প্রগাঢ় শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বটি সম্পন্ন করলাম বলে ভেবে নিতে চাই। 

আবার, সেই সৈয়দ মুজতবা আলী রচনা সমগ্র কেনা প্রসঙ্গে ফিরে যাই। ভদ্রতার সঙ্কোচ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বিধায় সেই মেয়েটির সাথে কথা বলা হয়নি। তবে বইগুলো আমার নজর কেড়েছিল এদের দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদের গুণে। বারবার আমি তেরছা চোখে তাকিয়ে দেখে নিচ্ছিলাম। পরে পাঠক সমাবেশের একজন কর্মীর কাছে জানতে চাইলাম, বইগুলো আর আছে কিনা। নেই। আমি অর্ডার করলে ওরা এনে রাখবে বলে জানালো। এতগুলো বই রাখার মতো যথেষ্ট জায়গা এখন ঘরে আছে কিনা সে চিন্তায় আমি খানিকটা দ্বিধার মধ্যে পড়ে গেলাম। 

সম্ভবত এই ঘটনার বেশ কিছুদিন পূর্বে আমি সৈয়দ মুজতবা আলীর সব লেখা ধারাবাহিকভাবে পড়ার একটি সঙ্কল্প করেছিলাম এবং সেই পণ অনুসারে ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মে প্রাপ্ত কলকাতা থেকে প্রকাশিত  দশ বা এগারো খণ্ডের সবগুলো বই ডাউনলোড করে পড়তে শুরু করেছিলাম। এখানে বলে রাখি, আমার আব্বার বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহশালায় তাঁর অন্যতম প্রিয় লেখক মুজতবা আলীর বলতে গেলে সব প্রধান সাহিত্যকর্মই ছিল এবং যথারীতি সেগুলো আমার একাধিকবার পড়াও হয়ে গেছে। স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্রকালীন অবস্থায়। তবে আগেই বলেছি, সব সময়ের প্রিয় লেখক হিসেবে আমি সৈয়দ মুজতবা আলীর কাছে বারবার ফিরে আসি বা যাই। গত বছর করোনা মহামারির অস্থির সময় পার করার ভেতরে তাঁর একটি বই পুনরায় পড়ে শেষ করেছি। 

যা হোক, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত বইগুলোর মনোলোভা প্রচ্ছদই সংগ্রহে থাকা সত্ত্বেও আমাকে সেদিন বইগুলো কিনতে বারবার প্রলুব্ধ করে যাচ্ছিল। ইতিমধ্যে কল্পনায় দেখতে শুরু করেছিলাম, বইয়ের তাকে বা টেবিলে প্রিয় লেখকের এগারোটা সুদৃশ্য বই পরপর সাজিয়ে রাখলে সেটি কী দারুণ এক সাহিত্যিক আবহ তৈরি করে চারপাশ জুড়ে!

তো, নানা যুক্তিতর্ক দিয়ে নিজেকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে ফিরে এসেছিলাম এবং কয়েকদিন পরে পাঠক সমাবেশে ফোন করে যখন জানলাম যে এগারো খণ্ডের মধ্যে ছয় বা সাত নম্বর খণ্ডটি নেই, তখন সবকটি একসাথে পাওয়া গেলে আমাকে জানাবেন বলে ফোন রেখে দিয়ে বড় করে শ্বাস নিয়েছিলাম। কিন্তু মুজতবা আলীর বই কেনার কথা বলতে গিয়ে আদতে যা বলতে চেয়েছিলাম, তা থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে এসেছি। অবশ্য সাহিত্যের এই গোলকধাঁধায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই অন্যরকম। যে এই গোলকধাঁধায় একবার মজেছে বা আটকা পড়েছে, তাকে আর সেখান থেকে বের করে আনা সম্ভব নয়। 
 
বাতিঘরে যাওয়ার কথা বলছিলাম। সেদিন বাতিঘর থেকে আমি গ্রাহাম গ্রীন এর দুটি বই সহ আরও কিছু বই কিনেছিলাম। গ্রীন এর বই দুটি ছিল, ‘দ্য পাওয়ার এন্ড দ্য গ্লোরি’ এবং ‘দ্য কোয়ায়েট অ্যামেরিকান’। সেদিন যখন তাঁর ড্রিম ডায়েরির হদিস পেলাম, কিছু সময় বাদে দারুণ উৎসাহ নিয়ে আমি লেখকের ‘আওয়ার ম্যান ইন হাভানা’ বইটি পড়তে শুরু করলাম। কয়েক পাতা পড়তে না পড়তেই মুখোমুখি হলাম দারুণ এক উপলব্ধির। বইয়ের দুই চরিত্র, হাসেলবাশের আর ওরমোল্ড, এর মধ্যে কথোপকথন চলছে। হাসেলবাশের ওরমোল্ডকে বলছে, “ইউ শুড ড্রিম মোর, মিস্টার ওরমোল্ড। রিয়েলিটি ইন আওয়ার সেঞ্চুরি ইজ নট সামথিং টু বি ফেসড।”
সত্যিই তাই!

মালেকা পারভীন: কথাসাহিত্যিক।

Dutch-Bangla Bank
TELETALK