রোববার   ০১ আগস্ট ২০২১ || ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮ || ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

ধারাবাহিক আত্মকথা ।। শংকিত পদযাত্রা ।। খ ম হারূন

১৭:৩৫, ৮ অক্টোবর ২০২০

আপডেট: ১৮:৩৬, ১০ অক্টোবর ২০২০

১৮৬৪

ধারাবাহিক আত্মকথা ।। শংকিত পদযাত্রা ।। খ ম হারূন

শঙ্কিত পদযাত্রা 

ধারাবাহিক আত্মকথা

 খ. ম. হারূন ।

 

খ্যাতিমান টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব খ ম হারূন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন দেশের টেলিভিশন এবং মঞ্চের সাথে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্বর্ণময় সময়ে যে কয়েকজন নির্মাতা-প্রযোজকের নাম ছোট পর্দার কল্যাণে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে
খ ম হারূন তাদের একজন। দীর্ঘ বর্ণিল ক্যারিয়ারে অসংখ্য উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন তিনি।
এখনো রয়েছেন সমান সক্রিয়।
দেশের গণমাধ্যম জগতের বরেণ্য এই ব্যক্তিত্বের আত্মকথা ‘শংকিত পদযাত্রা’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে অপরাজেয় বাংলা’য়।

 

[পর্ব- ১]

প্রতিষ্ঠালগ্নের পর থেকে প্রায় পয়ত্রিশ বছর বাংলাদেশ টেলিভিশন চত্ত্বর ছিলো গুণীজনদের পদচারনায় মুখরিত। এ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের সেরা লেখক, অভিনয় শিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী, যাদু শিল্পী, বাদ্যযন্ত্রী, কবি, গুরুগম্ভীর আলোচক, দর্শক প্রিয় উপস্থাপক, দার্শনিক স্বভাবের চারুশিল্পী, ভাস্কর, স্থপতি, অধ্যাপক, আমলা। সকল ক্ষেত্রের গুনীজনদের এক মিলনমেলা ছিলো বিটিভি। সেই বিটিভিতে দীর্ঘ ত্রিশ বছর কাজ করবো এটা ছাত্র জীবনে আমি কখনো ভাবিনি।  

১৯৭০-এর সেপ্টেম্বরে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তখন চোখে আগামী দিনের স্বপ্ন ছিলো সীমিত। একজন আইনজীবি বা সম্ভব হলে সাংবাদিক- এই ছিলো ভবিষ্যত পরিকল্পনা। দুটি ক্ষেত্রেই পড়াশুনা করতে হলে কমপক্ষে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা শেষ করার প্রয়োজন ছিলো। এখন যেমন আইন বা সাংবাদিকতায় অনার্সে ভর্তি হবার সুযোগ আছে, তখন সেটা ছিলো না।  

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ ছিলো ভিন্ন। গরম ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে নানা ধরনের আয়োজন শুরু হয়ে যায় ক্যাম্পাসে। প্রতিটি হলেই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, নাটকের মহড়া ছিলো নিয়মিত। টিএসসি ছিলো এসবের প্রানকেন্দ্র যার প্রধান ছিলেন এ জেড খান। ১৯৭২ সালের ১০ আগষ্ট সে সময়ের ডাকসুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যচক্র, আহবায়ক ছিলেন ম হামিদ। সে সময় ডাকসুর সহ-সভাপতি ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারন সম্পাদক মাহবুব জামান। একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে প্রথম থেকেই নাট্যচক্রের সাথে জড়িত হয়ে যাই।

 

যারা নাট্যচক্রের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের মধ্য থেকে নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, আল-মনসুর, ম হামিদ ও আমি ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রযোজক হিসেবে যোগদান করি। পরবর্তী সালে সালেক খান। নাট্যচক্রের আরেকজন সদস্য বিশিষ্ট চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে যোগ দেন মহাপরিচালক হিসেবে, তার কর্মকাল ছিলো প্রায় চার বছর। 
 
নাট্যচক্রে আমার ভূমিকা ছিলো একজন সংগঠক এবং নির্দেশকের। যেহেতু নাটক লেখায় আমার হাত ছিলো না তাই নাট্যকার হবার চেষ্ঠা কখনও করিনি। সেই ছাত্র জীবনে নাট্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন- সেলিম আল-দীন, আল-মনসুর, সৈয়দ সালাউদ্দি জাকী, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, এহসানউলল্লাহ,  আখতার কমল সহ আরো কয়েকজন। নির্দেশনায় নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, আল-মনসুর, ম হামিদ এবং আমি সহ আরো বেশ কয়েকজন। অভিনেতা-অভিনেত্রী হিসেবে যারা আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। জনপ্রিয় হয়েছেন।
 স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে একদল টগবগে তরুণ, যাদের একটা বড় অংশ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন- তাদের নতুন একটি কাজের ক্ষেত্র তৈরী হয়ে যায়। আন্তঃহল নাট্য প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে দুর্গত অঞ্চলে  ত্রান বিতরণ, দুর্গম এলাকায় নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন, কতো কিছুতেই না অংশগ্রহন করেছিল নাট্যচক্রের সদস্যরা। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকার ফলে নাটক নিয়ে পড়াশুনা করার ইচ্ছা তৈরী হয়।  

সঙ্গীত, নাটক ও চলচ্চিত্র - যা নিয়ে আগে কখনো উচ্চশিক্ষা গ্রহনের সুযোগ ছিলো না, সেই সুযোগ তৈরী হয় ১৯৭৩ সালে। ভারতে এ সকল বিষয়ে পড়াশুনা করার জন্য  আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলো। দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) এবং পুনার ফিল্ম এ্যান্ড টেলিভিশন ইনষ্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)- এই প্রতিষ্ঠান দুটিতে পড়াশুনা করার জন্য ভারতের হাজার হাজার তরুণ ভর্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতো। এনএসডি এবং এফটিআইআই-এ নিজ খরচে পড়াশুনা করার কোনো সুযোগ ছিলো না। দুটি প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্রছাত্রই তখন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে স্কলারশীপ লাভ করে পড়াশুনার সুযোগ পেতেন। ভারতের বাইরেও কয়েকটি দেশের ছাত্রছাত্রীরা ঐ দুটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারতেন। ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশের  ছাত্রছাত্রীরাও আবেদন করার সুযোগ পায়। 

১৯৭৬ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের পড়াশুনা শেষ হবার সাথে সাথেই আমি এনএসডি’র একটি স্কলারশীপ পেয়ে যাই। দিল্লিতে যাবার কারণে এমএ’র মৌখিক পরীক্ষা আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে লিখিত পরীক্ষার পরদিনই গ্রহণ করা হয়। মনে আছে ভাইবাতে আমার শ্রদ্বেয় শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেছিলেন, ‘তুমি নাটকের উপর পড়াশুনা করতে যাচ্ছো। যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে তার গভীরে অবশ্যই প্রবেশ করতে হবে। দর্শন অধ্যয়ণের কারণে দেখবে কতো কঠিন বিষয় বিশ্লেষন করা তোমার জন্য কতো সহজ হয়ে যাবে।’ নাটক নিয়ে উচ্চশিক্ষা আমার কর্ম জীবনে বিশেষ করে টেলিভিশনের কাজের ক্ষেত্রেও যার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। অনেক বিষয়ে আমার পদ্ধতিগত শিক্ষা থাকায় বিটিভিতে নানা ধরনের অনুষ্ঠান নির্মাণে আমার একটা গ্রহনযোগ্যতা তৈরী হয়। একজন প্রযোজক ও নির্মাতা হিসেবে সফলতা যার প্রধান একটি কারন। 

এনএসডি’র তিন বছর শতব্যস্ততার মধ্যে পার হয়ে যায়। নাটক যে এতো কঠিন বিষয় জানা ছিলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের পড়াশুনা ছিলো অনেকটা না করলে নয় তাই করতে হয়। নেশা ছিলো নাটক। আর ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা তে মূল পড়াশুনাই ছিল নাটক। ভোরে উঠে নাস্তা করে ৮ টার মধ্যে ক্লাস। দেরি করা যাবে না। প্রায় একঘন্টার যোগ ব্যায়াম। তারপর শুরু হতো বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ। ড্যান্স মুভমেন্ট, মার্শাল আর্ট, ইম্প্রোভাইজেশন, মেডিটেশন, সোর্ড ফাইটিং, লাইটিং, কার্পেন্ট্রি ইত্যাদি। দুপুরের পর হতে নাট্য সাহিত্য, পরিচালনা পদ্ধতি, থিয়েটার আর্কিটেকচার, সেট ডিজাইন, কসটিউম ডিজাইন, সাউন্ড এন্ড মিউজিক ইত্যাদির উপর ক্লাস। বিকাল থেকে নাটকের মহড়া, যা প্রায় রাত ৮ টা পর্যন্ত চলতো। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ভাবে ক্যাম্পাসে ক্লাস, প্রশিক্ষন, মহড়া - এভাবেই সপ্তাহের ছ'টা দিন পার হতো। শীতে একমাস ও গ্রীষ্মে দেড় মাসের ছুটি ছিলো। সে সময়ে দেশে আসা যেত। না হলে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস ক্যাম্পে যোগদান। ক্যাম্পে আমি দু’বার অংশ নিয়েছিলাম।

একবার একমাসের জন্য কাশ্মীরে ১৯৭৭ সালের জুলাই মাসে সামার ক্যাম্পে এবং আরেকবার এক মাসের উইন্টার ক্যাম্পে ১৯৭৮ এর ডিসেম্বরে গোয়াতে। কাশ্মীর ক্যাম্পে সেই ১৯৭৭ সালে শান্তিনিকেতনের ক’জন বাঙালী ছাত্রের সাথে পরিচয় হয়েছিল। তার মধ্যে ছিলো সাদি মহম্মদ, মৃদুল কান্তি চক্রবর্তী, তপন বৈদ্য,  বাবু রহমান সহ বেশ ক’জন। পুনা থেকে এসছিলেন পিএইচডির ছাত্র রাজীব হুমায়ূন, ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ছাত্র সদরুল পাশা এবং স্বপন, বেনারস থেকে কাজী নূরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী। দিল্লী থেকে আমার সাথে তারিক আনাম ছিলো আরো ছিলো লেডি হার্ডিন্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রী রাশিদা এবং তার ছোটো বোন সাঈদা। একশ বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে আমরা বাঙালীরাও সেখানে একটি আলাদা প্লাটফর্ম দাড় করিয়েছিলাম। মনে আছে শ্রীনগর টেলিভিশন কেন্দ্রে আমরা বাংলা সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলাম। শান্তিনিকেতনের সবাই ছিলো সঙ্গীতের ছাত্র, তার মাঝে আমি ও তারিক গলা মিলিয়েছিলাম সবার সাথে। কোন বিদেশী টেলিভিশনে অনুষ্ঠান পরিবেশন করার সেটিই ছিলো প্রথম সুযোগ। এর আগে ১৯৭৬ সালে ঢাকা টেলিভিশন কেন্দ্রে দু’টি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। একটি আমার নির্দেশনায় ড. আব্দুল মতিন-এর লেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নাটক, যা বিটিভিতে সম্প্রচার করা হয়। প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন আলী ইমাম। তাছাড়া এনএসডিতে যাবার আগে রামপুরা টিভি ভবনের দুই নাম্বার স্টুডিওতে নাট্য বিষয়ক একটি আলোচনা, উপস্থাপনায় ছিলেন ক্যামেলিয়া মুস্তাফা এবং প্রযোজনায় আব্দুল্লাহ আল-মামুন।   

১৯৭৯ সালের জুলাই মাসে আমি এবং তারিক আনাম ঢাকা ফিরে আসি এনএসডির তিন বছর শেষ করে। আমরা আসার আগে এনএসডি থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরেছেন সৈয়দ মহিদুল ইসলাম, মুনির, এস এম মহসীন, জামিল আহমেদ, নূপুর ও জিনাত। আমাদের দু’বছর পরে ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, কামালউদ্দিন নীলু  ও কামরুজ্জামান রুনু। ঢাকায় তখন নাটক নিয়ে দারুন হৈ চৈ শুরু হয়েছে। মঞ্চ নাটক দারুণ ভাবে দর্শক আকৃষ্ট করছে। থিয়েটার, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, নাট্যচক্র, ঢাকা থিয়েটার, আরণ্যক, পদাতিক, বহুবচন সহ আরো অনেক দল নিয়মিত নাট্য চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। ফিরে এসে আমি নাট্যচক্রে রাজা রাজা খেল, নাটকটি  হাতে নেই। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন আমার নির্দেশনায় যেসব নাটক  টিএসসিতে মঞ্চস্থ হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য - কিংশুক যে মরুতে, খলিলুল্লাহ বিষয়ক জটিলতা ও প্রত্যাবর্তনের দেশে।

কিংশুক যে মরুতে  (প্রথম মঞ্চায়ন ১০ নভেম্বর ১৯৭৪) নাটকের পটভূমি ছিলো মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের। সে সময়ে একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার দেশকে নিয়ে উপলব্ধিই ছিলো নাটকে মূল বিষয়। খলিলুল্লাহ বিষয়ক জটিলতা  (প্রথম মঞ্চায়ন ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫) একজন বিকারগ্রস্ত মানুষকে কেন্দ্র করে। মানুষের লাশের দিকে যার লোভ। সেসময় পত্রিকায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি খবরকে কেন্দ্র করে নাটকটি রচিত। এছাড়া প্রত্যাবর্তনের দেশে (প্রথম মঞ্চায়ন ১৩ এপ্রিল ১৯৭৬)  নাটকটি পঁচাত্তর পরবর্তী  ঘটনাকে কেন্দ্র করে। একজন বিশ্বাসঘাতক নেতার ক্ষমতা গ্রহন, উত্তরণ ও পতন যা মীর জাফরের চরিত্রকে মনে করিয়ে দেয়। মনে আছে প্রত্যাবর্তনের দেশে  যখন টিএসসিতে মঞ্চস্থ হচ্ছে তখন মঞ্চে রীতিমত ইট-পাটকেল পড়তে থাকে। কয়েকটি ফাঁকা গুলি সবাইকে আতঙ্কিত করে। এরই মাঝে আমরা ব্যারিকেড তৈরী করে নাটকটি চালিয়ে যাই। ম হামিদ সহ আমরা কযেকজন ছিলাম দুষ্কৃতিকারীদের লক্ষ্য, যাতে নাটকটি পণ্ড করা যায়। 

কিংশুক যে মরুতে এবং খলিলুল্লাহ বিষয়ক জটিলতা নাটক দুটি লিখেছিলেন এহসানুল্লাহ। বর্তমানে অষ্টেলিয়া প্রবাসী মহম্মদ এহসানুল্লাহ পরবর্তী সময়ে আর কোনো নাটক লিখেছেন বলে আমার জানা নেই। প্রত্যাবর্তনের দেশে নাটকের রচয়ীতা ছিলেন সে সময়ে সাইকোলজি বিভাগের ছাত্র সালেক খান। সালেক আমার সাথেই দিল্লি গিয়েছিল এনএসডিতে পড়াশুনা করতে। ফিরে এসে আমার একবছর পরে যোগদান করে বিটিভিতে প্রযোজক হিসেবে। পরে সে বিটিভি’র চাকরি ছেড়ে নিউইর্য়কে চলে যায় নাটক বিষয়ে পিএইচডি করতে। বর্তমানে সালেক খান নিউইয়র্কেই বসবাস করছেন। সালেক খান, কামালউদ্দিন নীলু, এহসানউল্লাহ, রেজাউল একরাম রাজু এরা সবাই ছিলো সূর্যসেন হলের ছাত্র। প্রথমে দু’একজন অন্য হলে থাকলেও শুধুমাত্র নাটক করার উদ্দেশ্যে সূর্যসেন হলের ছাত্র হিসেবে হল বদল করে চলে আসে।  

[চলবে]
 

Dutch-Bangla Bank
TELETALK