বুধবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ || ১৪ আশ্বিন ১৪২৮ || ১৯ সফর ১৪৪৩

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধি

হীরেন পণ্ডিত, প্রাবন্ধিক

০০:১২, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ০০:১২, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

৫৮৯

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধি

শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা
শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন। কাউকে বাদ দিয়ে কারো কল্পনা করা যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতা বা মহানায়ক হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতির পিতা, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বা স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা হিসেবে তাঁরা নিজ নিজ দেশে মর্যাদার আসনে চিরকাল অধিষ্ঠিত থাকেন। কোন দেশেই আমাদের দেশের মত জাতীয় নেতাদের নিয়ে বিতর্ক হয় না। সরকার আসে, সরকার যায় কিন্তু নেতাদের অবস্থান ও মর্যাদা নিয়ে তারা টানাটানি করেন না। এদিক দিয়ে ব্যতিক্রম শুধুই বাংলাদেশ। বাঙালি জাতির শত বছরের ইতিহাসের গৌরবজনক ঘটনা হচ্ছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। ৩০ লাখ শহীদের তাজা রক্ত, অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং সীমাহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর এই স্বাধীনতার বিজয় অর্জিত হয়। ২৩ বছরের আন্দোলন সংগ্রাম এবং একাত্তরের নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেই বিজয় ছিনিয়ে এনেছে বীর বাঙালি। বাংলার অনেক সূর্য সন্তান হয়তো বাঙালি জাতির শৃঙ্খল মোচনের স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করেছেন বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, ইতিহাসের মহানায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতি যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন শেখ মুজিবের নাম শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত হবে। শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, শেখ মুজিবই বাংলাদেশ জন্মের ঐতিহাসিক কাজটি সম্পন্ন করেছেন, তা আজ বিশ্ব ইতিহাসের অংশ। 
 
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ শত বাধা উপেক্ষা করে শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এরপর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাংলার নিরস্ত্র মানুষের ওপর সশস্ত্র যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সত্যিকার অর্থেই তার জীবনকে বাংলার মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ কালরাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এটা প্রায় সকলের ধারণা ছিল, পাকিস্তানী হানাদাররা প্রথম সুযোগেই শেখ মুজিবকে হত্যা করবে। বাংলাদেশের নয়, সমগ্র পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত নেতা ছিলেন। জনগণের নির্বাচিত নেতাকে হত্যা করলে বিশ্বজনমত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে এ ভয় পাকিস্তানীদেরও ছিলো। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু যদি আত্মগোপনে যেতেন, তাহলেও বিশ্ববিবেকের সমর্থন তার পক্ষে থাকতো না। যে জন্য ২৫ মার্চের আগে ৭ মার্চ বা অন্য কোনোদিন শেখ মুজিব সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি। পাকিস্তানি বাহিনী পূর্ব বাংলার মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করার পরের মুহূর্তটিই ছিল স্বাধীনতা ঘোষণার উপযুক্ত সময়। কৌশলী, দূরদর্শী ও অসীম সাহসী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করেই ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যদি ২৫ মার্চ রাতের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করতেন, তাহলে বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতা যুদ্ধকালে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতেন না। আর ভারত, রাশিয়াসহ বিশ্ববিবেকের সমর্থন না পেলে ৯ মাসে দেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না। পৃথিবীর কোনো দেশে তা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া কেউ ইচ্ছে করলেই একটি দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারেন না। স্বাধীনতা ঘোষণা করার ক্ষমতা বা অধিকার থাকতে হয়। যিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন, তাঁর প্রতি দেশের এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বের সমর্থন থাকতে হবে। সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ী দলের নেতা হিসেবে একমাত্র শেখ মুজিবেরই স্বাধীনতা ঘোষণা করার অধিকার ছিল।

বঙ্গবন্ধু যে রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এ সম্পর্কে হাজার হাজার দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। এটা জানা কথা যে, কোনো ব্যক্তির একদিনের ঘোষণায় কোনো দেশ অতীতেও স্বাধীন হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। স্বাধীনতা সংগ্রাম বা যুদ্ধের জন্য জনগণকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুুত করতে হয়। ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে দু'বার ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে এবং ১১ বছর ৮ মাস কারা নির্যাতন ভোগ করে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।

বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু একে অপরের পরিপূরক, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে 'মুজিব বাংলার বাংলা মুজিবের।' অথবা এভাবে বলা যায় যে বাংলাদেশই বঙ্গবন্ধু 'বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ । বাংলার বিখ্যাত কবি অন্নদা শংকর রায় যথার্থই বলেছেন, 'যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা গৌরি যমুনা বহমান, ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।'

আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকে দীর্ঘতম সময়ের জন্য দেশ শাসন করছে। অবশ্য ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এক মেয়াদ ক্ষমতাসীন ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী এতিহ্যবাহী দলটি। ২০০৯ সাল থেকে পরপর দুই মেয়াদ দেশ শাসন করতে পারায় দেশের উন্নয়নে আত্মবিশ্বাস জন্মেছে আওয়ামী লীগের এবং ক্রমান্বয়ে উন্নতি হচ্ছে।  আওয়ামী লীগ এখন দুঃসাহসী স্বপ্ন দেখতে পারে এবং এর বাস্তবায়নও দলটির আয়ত্তের মধ্যে রয়েছে।

একটি দেশের উন্নয়নে বিদ্যুতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনবরত বিদ্যুৎ ঘাটতি দেশের ধাবমান উন্নতির চাকাকে মন্থর করে দিয়েছিলো। অর্থাৎ দেশটিতে দীর্ঘকালের স্থায়ী বিদ্যুৎ সমস্যা, যার কোনো সমাধান পূর্ববর্তী সরকারগুলো দিতে পারেনি- আওয়ামী লীগ সরকার অত্যধিক ব্যয়ে হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। এ উৎপাদন শুধু গৃহস্থালি কাজেই নয়, বিদ্যুৎনির্ভর অন্যান্য মাধ্যমকেও সচল রেখেছে, যা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করেছে। বিদ্যুৎ পেয়ে মানুষ অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়ের কথা ভুলে গেছে। এজন্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

অপরদিকে বেড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ও। প্রায় সর্বত্রই দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সরকারকে সবচেয়ে স্বস্তি দিয়েছে কৃষিখাত ও তার ব্যবস্থাপনা। আমাদের মতো জনবহুল দেশে সীমিত কৃষিযোগ্য ভূমির সতর্ক ও যৌক্তিক ব্যবহার বাঞ্ছনীয়। আমাদের দেশে সেটা হয়েছে। ফলে আমাদের কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশেই কমে গেছে। আর এ কৃষি বিপ্লবের কারণেই ১৬ কোটি মানুষের দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা গেছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। আজকের এই কৃষি বিপ্লবের শতভাগই আওয়ামী লীগের উদ্ভাবন। এজন্য তাদের অবশ্যই অভিনন্দন জানাতে হয়।

আমাদের রাজস্ব, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক এবং জনশক্তি রফতানি। ব্যক্তি মালিকানায় শুরু হলেও সরকারের আগ্রহেই এ দুই খাত যথেষ্ট গতি অর্জন করেছে। যার ফলে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি গতি পেয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের বেকার সমস্যারও অনেকটা সমাধান হয়েছে। রফতানিযোগ্য এমন সব পণ্য রয়েছে, যা শতভাগ ব্যক্তি উদ্যোগে রফতানি করা যায় না। এক্ষেত্রে সরকারের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পোশাক তৈরির কর্মপরিবেশকে গ্রহণযোগ্য রাখতে সরকার ও মালিকপক্ষের এখনও অনেক কিছু করার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষেরই যে প্রচেষ্টার ঘাটতি নেই সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এভাবে চলতে থাকলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে বরাদ্দ বাতিল করলে আওয়ামী লীগ সরকার সেটাকে চ্যালেঞ্জরূপে গ্রহণ করে পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে শেষ হচ্ছে। ২০২২ সালেই সবার জন্য খুলে দেয়ার জন্য দিনরাত কাজ চলছে। নিজস্ব অর্থায়নে সরকার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে গত ডিসেম্বরে (২০২০) শেষ স্প্যান লাগানো হয়েছে, রেলের শেষ স্ল্যাব বসানোর কাজ শেস হলো সম্প্রতি। সেতুটির অস্তিত্বই এখন আমাদের সকলের কাছে মুখ্য। গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার অবকাঠামো নির্মাণে ব্রতী হয়েছে। ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নর্মাণ করা হচ্ছে। মেট্রোরেল এখন বড় বাস্তবতা ২৯ আগস্ট ২০২১ পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হলো মেট্রোরেল। আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মযজ্ঞ সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সেটা বাস্তবে রূপ দেয়ার চেষ্টা চলছে। শিক্ষা, যোগাযোগ অবকাঠামো, গ্যাস, বিদ্যুৎ, নারী শিক্ষা, চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা শতভাগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, বিনামূল্যে বই বিতরণ, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, সামাজিক কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী, অসহায়, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, স্বামী পরিত্যক্তা, অটিজম, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা প্রদান, আশ্রয়ণ প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, নারীর ক্ষমতায়নসহ ও বিভিন্ন সেক্টরের সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং জনগণকে বুঝাতে হবে। একমাত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সেই সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে। কোভিড-১৯ মহামারি সত্ত্বেও এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে এগিয়ে আামাদের প্রিয় বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে।

হীরেন পণ্ডিত, প্রাবন্ধিক ও রিসার্চ ফেলো বিএনএনআরসি

DBBL Agent Banking Cash In Cash Out