বুধবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ || ১৪ আশ্বিন ১৪২৮ || ১৯ সফর ১৪৪৩

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ কাইয়ুম ক্লিনিক্যালি ডেড, লাইফসাপোর্ট খোলার সিদ্ধান্ত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

১৩:৪৪, ২৯ আগস্ট ২০২১

আপডেট: ১৮:৫৯, ২৯ আগস্ট ২০২১

৯২৮৬

পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ কাইয়ুম ক্লিনিক্যালি ডেড, লাইফসাপোর্ট খোলার সিদ্ধান্ত

গত শুক্রবার মধ্য আকাশে বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকের শিকার হওয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ কাইয়ুমের জন্য আর কোনও চিকিৎসা সম্ভব নয়। যে কোনও সময়ই তার লাইফ সাপোর্টটি খুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারতের নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিলো তার। হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে (কোমায়) ছিলেন নওশাদ কাইয়ুম।

তার পরিবারের সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

এর আগে শনিবার রাতে হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রোশান ফুলবান্ধের বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছিলো, তার (ক্যাপ্টেন নওশাদ) অবস্থা গুরুতর। তিনি সম্পূর্ণ ভেন্টিলেশনের সহায়তায় বেঁচে আছেন। তার মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তিনি কোমায় আছেন।

রবিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে পাবিবারিক সূত্রটি অপরাজেয় বাংলাকে জানায়, চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্টটি খুলে না দিলেও শেষ কথা বলে দিয়েছেন। তার মস্তিষ্কের অর্গ্যানগুলো কাজ করছে না।

পাইলট কাইয়ুমের দুই বোন এরই মধ্যে নাগপুরে পৌঁছে গেছেন। তারা ভাইয়ের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছেন, লাইফ সাপোর্টটি খুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন চিকিৎসকরা।পরিবার এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কাইয়ুমের লাইফ সাপোর্টটি খুলে নেওয়া হবে। এরপর তারা ঢাকায় আসবেন।

নওশাদ কাইয়ুম যার ডাক নাম মিশু ঢাকায় একাই থাকতেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।  সেই স্ত্রী ও ছেলে আমেরিকায় থাকছেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে এক মেয়ে এখন কানাডায় রয়েছে।

নওশাদ কাইয়ুমের বাবাও ছিলেন একজন পাইলট। প্রথমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পরে মধ্যপ্রাচ্যের একটি এয়ারলাইন্সে ছিলেন তিনি। গত বছরই বাবাকে হারান কাইয়ুম। মা মারা গেছেন বছর ছয়েক আগে ক্যান্সারে। 

ঢাকায়  একাকীত্বের জীবন ছিলো তার। সে কারণে কিছুটা মানসিক চাপে থাকতেন। 

পরিবারের সূত্রটি জানায়, মধ্য আকাশে ফ্লাইটটি চলার সময় হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন কাইয়ুম। তবে তিনি সেকেন্ড ক্যাপ্টেনের হাতে দায়িত্ব না ছেড়ে নিজেই বিমানটির জরুরি অবতরণ করান। বিমানে কোনও চিকিৎসক যাত্রী রয়েছেন কিনা তার খোঁজ করা হলেও ক্রুরা যাত্রীদের জানতে দেননি পাইলট অসুস্থ। এবং এমন শারীরিক অবস্থায় নিজেই বিমানটিকে ল্যান্ড করান।

ঘনিষ্ট পারিবারিক সদস্যটি জানান, হার্ট অ্যাটাকের পর ঠিক যখন তার চিকিৎসা বা সেবা দরকার ছিলো তখন এতটা স্ট্রেস নিয়ে এতগুলো মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টাটিই করেছেন নওশাদ কাইযুম মিশু। “সে কারণেই হয়তো তাকে আমাদের হারাতে হলো,” বলেন তিনি।  

বিমানের সেই পাইলট নওশাদ কাইয়ুম লাইফ সাপোর্টে

শুক্রবার সকালে ওমানের মাস্কাট থেকে ১২৪ জন যাত্রীসহ বিজি-০২২ ফ্লাইটটি নিয়ে ঢাকা আসার পথে ভারতের আকাশে থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টেন কাইউম অসুস্থ বোধ করেন। পরবর্তীতে  বিমানটিকে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

আকাশে অসুস্থ হয়ে পড়ার সাথে সাথেই ক্যাপ্টেন কাইউম কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানান। একই সময় তিনি কো-পাইলটের কাছে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।

কলকাতার এয়ার  ট্রাাফিক কন্ট্রোল বিমানটিকে তার নিকটস্থ নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার নির্দেশ দিলে কো-পাইলটই বিমানটিকে অবতরণ করান।

এদিকে শুক্রবারই আরেকটি ফ্লাইটে করে আট সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল নাগপুরে যায়। মধ্যরাতের পর বিমানটিকে যাত্রীসহ ঢাকার বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়।

DBBL Agent Banking Cash In Cash Out
খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত