শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ || ২ আশ্বিন ১৪২৮ || ০৭ সফর ১৪৪৩

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

অর্থনৈতিক উন্নয়নে টেকসই নদী খনন জরুরি

বাসস

১৮:২৯, ৩১ জুলাই ২০২১

১০০

অর্থনৈতিক উন্নয়নে টেকসই নদী খনন জরুরি

অর্থনীতিতে নদীপথের অবদান বাড়ানোর লক্ষ্যে নদীপথের অভিগম্যতা বৃদ্ধি ও টেকসই নদী খনন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। এজন্য জাতীয় বাজেটে এখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, ড্রেজিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে বিভিন্ন ধরনের কর হ্রাস, নদী খনন ও ব্যবস্থাপনা সরকারের ফাষ্ট-ট্রাক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনার পাশাপাশি মানবসম্পদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। 

শনিবার (৩১ জুলাই) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘টেকসই নদী খনন : চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকার’ বিষয়ক ওয়েবিনারে আলোচকরা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এতে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার, ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক, পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের সহসভাপতি রবার্ট হেনেসি, ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জাব্বার এবং ইন্সটিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক আবু সালেহ খান বক্তব্য রাখেন। 

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সারাদেশে নদীরগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এর জন্য নদী ব্যবস্থাপনার প্রতি অধিক গুরুত্বারোপের পাশাপাশি আরও ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নদী খননে ড্রেজার ব্যবহার দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে মংলা বন্দরের সক্ষমতা চট্টগ্রাম বন্দরের ন্যায় উন্নীত করা হয়েছে। তিনি দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, যথাযথ নদী খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নে মানব সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত নীতিমালা আবশ্যক । এলক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সারাদেশে নদী খনন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমাদের ৫০০টি ড্রেজারের প্রয়োজন হলেও সর্বমোট রয়েছে ১৫৬টি, এমন বাস্তবতায় সরকারের পাশাপাাশি দেশের বেসরকারিখাতকে এখাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, নদীপথে সাশ্রয়ীমূল্যে পণ্য পরিবহনের সুবিধা থাকায় সুপ্রাচীন কাল থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় নদীপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তবে ক্রমাগত পলি জমে নদীগুলোর গভীরতা হ্রাসের কারণে নদীপথ সংকীর্ণ হওয়ায় অর্থনীতি সে সুবিধা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় নদী পথের অভিগম্যতা বাড়তে টেকসই নদী খনন ও ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মত দেন।

অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত তার মূল প্রবন্ধে বলেন, ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে, অর্থনীতি আরও উপকৃত হবে। তিনি মনে করেন বাংলাদেশের নদী ও খালসমূহের ড্রেজিংয়ের জন্য একটি মাষ্টার প্ল্যান প্রণয়ন এবং এজন্য বেসরকারিখাতকে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক।

DBBL Agent Banking Cash In Cash Out
খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত