রোববার   ২৭ নভেম্বর ২০২২ || ১৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯ || ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

শিল্প সমালোচনা

সমাধিভূমির ভ্রমণনির্ভর তথ্যচিত্র ‘টুমস’: মহাকাব্যিক নির্মাণের ট্র্যাজিক উপাখ্যান

ড. ইসলাম শফিক

২১:৪৭, ৫ অক্টোবর ২০২২

আপডেট: ২২:০১, ৫ অক্টোবর ২০২২

৭২৩

শিল্প সমালোচনা

সমাধিভূমির ভ্রমণনির্ভর তথ্যচিত্র ‘টুমস’: মহাকাব্যিক নির্মাণের ট্র্যাজিক উপাখ্যান

ই-কার্ডে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্মের প্রিমিয়ার শো দেখার আমন্ত্রণ পেলাম। আমন্ত্রণপত্রটির ডিজাইন প্রথম দেখামাত্রই ভীষণ আকৃষ্ট হলাম। তবে কার্ডে চোখ বুলিয়ে পড়তে পড়তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, এমন প্রদর্শনীতে যাবার বা উপেক্ষা করার! তথ্যচিত্রের নাম, বিষয়, নির্মাণ আঙ্গিক ধরণ, ব্যাপ্তি, নির্মাতা ও প্রযোজক প্রভৃতি দেখে অংশগ্রহণের জন্য সম্মত হলাম। 

আমন্ত্রণপত্রের কার্ডটি মূলত তথ্যচিত্রের পোস্টার। ক্যানভাসে আঁকা নীলাকাশ আর সাদা মেঘের মিতালীকে আলিঙ্গন করতে উড়ে যাচ্ছে একদল পাখি। মেঘ-আকাশ-পাখিদলকে পশ্চাদপটে রেখে পোস্টারের শুরুতে লাল রঙে ইংরেজি হরফে লেখা আছে-A Travel Documentary। নিমিষেই চোখ নামাই উড্ডীন ভ্রমণরত পাখিদলের দিকে, পাখিদলও ভ্রমণপিয়াসী! অসাধারণ রূপক-সাংকেতিক ইমেজ ব্যবহার করে ভ্রমণনির্ভর তথ্যচিত্রের পোস্টারে যোগাযোগ ভাষা নির্মাণ করা হয়েছে।

এবার তথ্যচিত্রের মূল নামের দিকে তাকাই। টাইপোগ্রাফির অসাধারণ সৃজনশীলতায় কালো রঙে লেখা হয়েছে- Tombs। Tombs এর নিচের লাইনে সাবহেডে লেখা রয়েছে- Tea Planters Cemeteries in Sylhet| Tombs লেখার T বর্ণটিকে খ্রিস্টান সমাধিস্থলের ক্রুসের মোটিফ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। পোস্টারের নিচের শেষাংশে দুটি নাম রয়েছে- তথ্যচিত্রের পরিচালক এ. আর. এম. নাসির, এবং এই তথ্যচিত্রের গবেষণা, পাণ্ডুলিপি ও প্রযোজক এলিজা বিনতে এলাহী। প্রিমিয়ার শোর নির্ধারিত দিনে ৩ অক্টোবর ২০২২, সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর আগারগাঁয়ের বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের কনফারেন্স হলে উপস্থিত হই। মাত্র ত্রিশজন আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যমকর্র্মীদের সঙ্গে নিয়ে যথাসময়ে ‘টুমস’ তথ্যচিত্রের উদ্বোধনী শো আরম্ভ হয়। ত্রিশ মিনিট ব্যাপ্তির এই তথ্যচিত্রের প্রদর্শনকালীন ডকুমেন্টারির অডিও ব্যতীত অন্যকোন শব্দ কনফারেন্স হলে উৎপন্ন হয়নি। পিনপতন নিরবতায় অত্যন্ত মনযোগ দিয়ে দর্শক এই তথ্যচিত্রটি অবলোকন করেন। কারো কারো অন্তর্দহন ও গোপনে কান্নার শব্দ, ভারী নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শুনতে পাই। চাশমা নামিয়ে কাউকে কাউকে অশ্রুজল মুছতে দেখেছি।

Travel Documentary গল্প শুরু হয় বাংলাদেশের ভ্রমণকন্যা খ্যাত এলিজা বিনতে এলাহীকে ক্যামেরায় অনুসরণের মাধ্যমে। এলিজা বিনতে এলাহী প্রসঙ্গে এখানে খানিকটা বলে রাখা প্রয়োজন- তিনি ঐতিহ্যের সন্ধানে দেশের নানাপ্রান্ত ভ্রমণ করেন। তাঁর ভ্রমণের বিশেষত্ব হলো- তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ঘুরে দেখেন। সংগ্রহ করেন সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও তথ্য-উপাত্ত। ‘ঐতিহ্য পর্যটক’ হিসেবে তিনি বিশ^ দরবারে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চান। এই স্বপ্ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি তৈরি করেছেন ‘কোয়েস্ট এ হেরিটেজ জার্নি অব বাংলাদেশ’। ‘টুমস’ তথ্যচিত্রটি কোয়েস্ট এর চতুর্থ প্রযোজনা।‘Tombs’  প্রযোজনাটিতে এলিজা বিনতে এলাহী একাধারে গল্পের কথক, একজন ভ্রমণবিষয়ক বিশেষজ্ঞ গবেষক, উপস্থাপক, মডেল, সংক্ষাতকার গ্রহণকারী ও ধারা বর্ণনাকারী। তথ্যচিত্রের পরিচালক এ.আর.এম. নাসির অত্যন্ত সুকৌশলে এই একটিমাত্র চরিত্রকে ভেঙ্গেচুড়ে বহু চরিত্রে পর্দায় উপস্থিত করেছেন। আবার সকল চরিত্র মিলেমিশে একাকার হয়ে একটি অভিন্ন পূর্ণাঙ্গ সত্ত্বায় দর্শক এলিজা বিনতে এলাহীকে উচ্চকিত মর্যাদার আসনে খুঁজে পায়। ভ্রমণের তথ্যচিত্র নির্মাণে অভিনয় অত্যাবশ্যক। এলিজা গঠিত হয়, শূন্যে মিলায়; পুনরায় আবর্তিত হয় স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে। তিনি অসাধারণ অভিনয় দক্ষতায় যে গল্প নির্মাণ করেছেন তা দর্শকের প্রাণ ছুঁয়ে গেছে। 

‘টুমস’ তথ্যচিত্রের পটভূমি সিলেটের ব্রিটিশ টি-প্ল্যান্টার্সদের সমাধিভূমির ইতিবৃত্তকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই রয়েছে খ্রিস্টান সমাধিসৌধ। এসব সমাধিসৌধ সিমেট্রি হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় রয়েছে কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এই সমাধিসৌধ প্রতিষ্ঠা করে। এসবের মধ্যে বেশকিছু সিমেট্রি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অর্থাৎ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচর্যা, যত্ন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। সিলেটের চা বাগানের সিমেট্রিগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন। কিছু সমাধিসৌধ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা হচ্ছে, আবার কিছু সিমেট্রি অবহেলা-অনাদরে ইতোমধ্যে বিনষ্ট হয়ে গেছে। একজন ‘ঐতিহ্য পর্যটক’ হিসেবে এলিজা এলাহী এবার প্রযোজনা করার পরিকল্পনা করেন সিলেটের চা বাগানে অবস্থিত ব্রিটিশ টি-প্ল্যান্টার্সদের সিমেট্রির ট্র্যাজিক ইতিহাস নিয়ে। প্রতিটি সমাধিসৌধ একেকটি আলাদা গল্প, আলাদা কাহিনী, আলাদা উপাখ্যান। প্রতিটি উপাখ্যান থেকে ভেসে আসে ইতিহাসের আর্তনাদ, হাহাকার আর বুকভাঙ্গা কান্নার শব্দ। ‘Tombs’  তথ্যচিত্রের পর্দা থেকে সেই ট্র্যাজিক গল্পকথা ভেসে আসে চা বাগানের প্রাকৃতিক নিস্তব্ধতা ভেদ করে। 

‘Tombs’  তথ্যচিত্রে শুরুতে এলিজা বিনতে এলাহী বঙ্গীয় ব-দ্বীপের চা শিল্পের ইতিহাসের শেকড় সন্ধানে আমাদের তিনি নিয়ে যান ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনিছড়ায় চা বাগানে। তিনি ক্যামেরায় বেশ সাবলিলভাবে কথা বলেন। ক্যামেরায় এই সাবলিল বাচনভঙ্গি দর্শক তাঁকে আপন করে নেয়। দর্শক হিসেবে নিজের অবস্থান ভুলে গিয়ে আমরা তাঁকে অনুসরণ করতে থাকি ক্যামেরার পেছনে পেছনে, পরিচালক ও চিত্রগ্রাহকের পায়ে পায়ে। এলিজা এলাহী বর্ণনায়, অভিনয়ে, সংলাপের মাধ্যমে ক্যামেরায় জানান দেন- ১৮৮০ সালে শ্রীমঙ্গলে বৃটিশরা বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু করেন। সুদূর ইংল্যান্ড থেকে সিলেটের টি প্ল্যান্টার্সদের আগমন ঘটে উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে। বাণিজ্যিকভাবে এখানে চা চাষ আরম্ভ হয় ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে। মূলত বাঙালিদের সঙ্গে চায়ের পরিচয় ব্রিটিশদের মাধ্যমেই। বাংলায় চা শিল্পকে প্রতিষ্ঠা করতে ইংল্যান্ড থেকে এলেন প্রচুর কর্মচারী। কর্মসূত্রে তো এলেন এদেশে, কিন্তু অনেকেই আর ফিরে যেতে পারলেন না। ‘টুমস’ তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বর্তমান সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানে দুর্ঘটনা এবং রোগের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এঁদের অধিকাংশ ম্যালেরিয়া, কালা-জ্বর, টাইফয়েড, টিটেনাস, বন্য প্রাণীর আক্রমণও পানিতে ডুবে মারা যায়। ১৮৮৫ সালে রবার্ট রয়বেইল নামক ৩৮ বছর বয়সী এক কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেন। দুর্গম ও সময়সাপেক্ষ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মৃতদেহ ইংল্যান্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভব ছিল না। রয়বেইলকে তাই সমাহিত করা হল চা বাগানের মধ্যেই। সেই থেকে শুরু হলো সিলেটের চা বাগানের ট্র্যাজিক আখ্যানের। ১৮৯৬ সালে জলে ডুবে মারা যান দুই শিশু উইলিয়ম জন ও ডেভিড সহাবি। তাদের সমাধিও আছে এখানেই। ১৯১৮ সালে মারা যান কর্মচারী জর্জ উইলিয়ম পিটারের স্ত্রী মেরি এলিজাবেথ পিটার। তাঁর মৃত্যুর এক বছরের মাথায় মারা যান জর্জ উইলিয়ম পিটারও। স্বামী-স্ত্রী এখানে একই কবরের শায়িত হন। পর্যায়ক্রমে চা বাগানে কর্মরত বহু বৃটিশ টি-প্ল্যান্টাসগণ ও তাঁদের স্ত্রী-পুত্র ও স্বজন মৃত্যুবরণ করেন। তাঁরা তদানিন্তন বাংলা ও আসামে এসে আর ফিরে যেতে পারেননি। তাঁদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় পাহাড়ঘেরা চিরসবুজ চা বাগানের মাঝখানে। চা বাগানে চিরনিদ্রায় শায়িত আত্মীয় স্বজনদের স্মৃতি রক্ষার্থে সমাধিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন ব্রিটিশ কর্মকর্তাগণ। এই সিমেট্রির প্রামাণ্যচিত্র থেকে একাধারে বেশ কয়েকটি বিষয় প্রসঙ্গে ভীষণভাবে গুরুত্ব দিয়ে তুলে আনা হয়েছে। স্থাপত্যবিদ্যা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, শিলালিপি, সমাধিসৌধ শিল্প, ইতিহাস পাঠ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশ ও ভৌগোলিক অবস্থান, পর্যটন শিল্প প্রভৃতি বিষয়ে একাডেমিক পর্যায়ে পাঠগ্রহণে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে আলোচ্য ডকু-চলচ্চিত্র উৎস হিসেবে নির্দ্বিধায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

সবুজময় নিস্তব্ধ প্রকৃতি আর বন-বনানীঘেরা সিমেট্রিতে শতবর্ষের ইতিহাস বুকে ধারণ করে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন চা শিল্পের সঙ্গে জড়ির ব্রিটিশ নাগরিকগণ। সিলেটের চা বাগানের সিমেট্রি একটি সময়ের প্রতীক, একটি জনপদের সভ্যতার স্মারক, একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমৃদ্ধি ও মর্যাদার প্রতীক। এই বিষয়গুলো অসাধারণ চিত্রবর্ণনায় উপস্থাপন করেছেন নির্মাতা আবু রেজওয়ান ইউরেকা নাসির। দর্শক সজীব চোখে প্রামাণ্যচিত্রে গল্প দেখেছে। কারো চোখ ও মন ক্লান্ত হবার সুযোগ নেই। গতিময়তা হলো এই তথ্যছবির মূল প্রাণ। ক্যামেরা ওয়ার্ক, কম্পোজিশন, শট, ক্যামেরা মুভমেন্ট, এঙ্গেল প্রতিটি ফ্রেমের শুট্যিং ধারণ ও তৎপরবর্তী সম্পাদনা প্রাক-পরিকল্পনার ফসল। পুরো তথ্যচিত্রটি অত্যন্ত হিসেব করে, গবেষণা করে তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার ও সংযোজন করা হয়েছে। আবহসঙ্গীত প্রতিটি সিমেট্রির গল্পকে আলাদা বৈশিষ্টে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে অতি সন্তর্পনে। নির্মাতা এম নাসির ইউরেকা সুকৌশলে দৈতাদ্বৈতবাদ শিল্পতত্ত্বের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন চলচ্চিত্রের মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়। মাত্র তিরিশ মিনিটে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তির একটি গল্প উপস্থাপন করা হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রে। নন-লিনিয়ার পদ্ধতিতে গল্পবলার এই ধরন প্রাচীন মহাকাব্যের  আধুনিক নব রূপায়ন হয়েছে চলচ্চিত্রে। সমাধিভূমির ভ্রমণনির্ভর তথ্যচিত্র ‘টুমস’ আধেয় ও নির্মাণ নান্দনিকতা দিক থেকে ট্র্যাজিক উপাখ্যানের এক মহাকাব্যিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ, ইতিহাসের শেকড় সন্ধান, ঐতিহ্য সংরক্ষণে ‘Tombs’  প্রামাণ্যচিত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে মাথা উঁচু করে পরিচয় করিয়ে দিতে এই প্রামাণ্যচিত্রটি প্রতিনিধিত্ব করবে বলে প্রিমিয়ার শোতে আমন্ত্রিত দর্শক ও শিল্পসমালোচকবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দর্শকবৃন্দ এই তথ্যচিত্র দেখে আবেগে ভাসবেন, কাঁদবেন, নিজের শেকড়ে প্রত্যাবর্তনে সচেষ্ট হবেন। আবার অনেককে পৌঁছে দেবেন অনাগত ভবিষ্যতের কল্পনার জগতে। নিউ-মিডিয়ার মহাবিপ্লবের সময়ে তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি ফেরানো, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্পে আকৃষ্ট করার জন্য এলিজা-নাসির শিল্পজুটি নির্মিত ট্র্যাভেল ডকুমেন্টারি Tombs : Tea Planters Cemeteries in Sylhet  অন্যতম এক মাইলফলক হিসেবে ইতিহাসে ঠাঁই করে নেবে।

ড. ইসলাম শফিক: শিক্ষক, গবেষক ও টিভি অনুষ্ঠান নির্মাতা।
[email protected]

Kabir Steel Re-Rolling Mills (KSRM)
Rocket New Cash Out
Rocket New Cash Out
BKash Savings