রোববার   ১৪ এপ্রিল ২০২৪ || ১ বৈশাখ ১৪৩১ || ০৩ শাওয়াল ১৪৪৫

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানে না কেন?

আমিনুর রহমান, গবেষক

১৬:৫৫, ২৯ এপ্রিল ২০২১

১৭৭৭

সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানে না কেন?

আমিনুর রহমান
আমিনুর রহমান

কয়েকদিন আগে একটি সরকারি প্রকল্পের পরামর্শক দলের অংশ হিসেবে জরুরি একটি সফরে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দেশের একটি মফস্বল শহরে গিয়েছিলাম। অতিরিক্ত মাস্ক থাকার পরও আরো ১ ব্যাগ মাস্ক গাড়িতে রাখার জন্য স্থানীয় বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ও ফার্মেসিতে খুঁজলাম কিন্তু কোন মাস্ক পেলাম না। একজন দোকানদার বললেন '১০০ পিস মাস্ক এনেছিলাম। প্রায় তিনমাস লেগেছে তা বিক্রি করতে। একদম চাহিদা নেই।' দোকানির কথায় আক্ষেপ, মানুষের মধ্যে কোন সচেতনতা নেই। বললেন, 'দ্যাখেননা স্যার! বাজারে একজনের সাথে আরেকজন ধাক্কাধাক্কি করে চলছে, কারও মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক আনলে পুরোটাই লোকসান। এজন্য আর কেউ আনিনা।'

দোকানির কথায় সত্যিই খেয়াল করে দেখলাম, তিনি সঠিক বলেছেন। মানুষের মুখে তেমন মাস্ক দেখা যাচ্ছেনা, স্যানিটাইজারের ব্যবহার তো দূরের কথা। লক্ষ্য করলাম স্বাস্থ্যবিধিতে মানুষের দারুণ অনীহা অথচ করোনার আঘাত দেশে ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

গত ২৭ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৮ জনের (০.৪৫%) করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে যা প্রতি ২০০ জনে ১ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১১ হাজার ১৫০ জন যা মোট আক্রান্তের ১.৪৯%। মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৯৩ জন বা ৮৮.৩৯%। একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ১১২ জন। তবে শনাক্তের হার কখনো বাড়ছে আবার কখনো কমছে। বয়সের দিক দিয়ে গতবছরের তুলনায় এবছর বেশি মাত্রায় তরুণরা আক্রান্ত হচ্ছে। আবার তরুণদের থেকেই বয়ষ্করা সংক্রমতি হচ্ছে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। 

করোনার সংক্রমণ কমা ও মৃত্যু ঝুঁকি কমানোর জন্য সরকারের নানান পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা; স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে ঘনঘন হাত পরিস্কার রাখতে উৎসাহী করা; এবং সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের মাধ্যমে মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ ও ‘সামাজিকদূরত্ব¡’ নিশ্চিত করা। এই ধারাবাহিকতায় গত ৫ থেকে ১১ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত ঘোষিত  ‘লকডাউন’  এক প্রকার ‘ঢিলেঢালা’ হওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত বাড়িয়ে আরো ‘কঠোর লকডাউন’ করার সিদ্ধান্ত হয় যা পরবর্তীতে আবারো বাড়ানো হয়। 

স্বভাবত প্রশ্ন আসে- মানুষ কেন স্বাস্থ্যবিধি মানে না? বিশেষ করে মাস্ক কেন পরতে চায়না? বাংলাদেশে বর্তমানে কত শতাংশ মানুষ মাস্ক পরে এরকম কোন নির্দিষ্ট উপাত্ত না পাওয়া গেলেও গত বছর (২০২০) জাতীয় জরিপের বরাত দিয়ে একটি ইংরেজি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দেখা যায় মাস্ক পরার হার ছিলো ৬২.৭ শতাংশ। শহরের (৬৪.৪৬%) তুলনায় এই হার গ্রামাঞ্চলে (৪৮.৭৫%) কম ছিলো। ঢাকা বিভাগে এই হার ছিলো সব থেকে কম (৫২.৬৮%)। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে একই বছরে মাস্ক পরার হার ছিলো মাত্র ৪৪%। খেয়াল করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে করোনা যখন প্রথমবারের মত ছড়ায় এবং জনমনে আতঙ্ক তুঙ্গে ছিলো তখন মাস্ক ব্যবহারের এই হার ছিলো যাকে অনেক বিশেষজ্ঞই ‘অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বিগত বছর শেষের দিকে করোনার হার কমে যাওয়ার সাথে সাথে এই ব্যবহারের হার অনেক কমে গেলেও এবছর আর সেভাবে বাড়েনি।

গ্রামীণ বাজার ও চায়ের দোকানে উল্লেখযোগ্য হারে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়না তবে তুলনামুলকভাবে বাজারের থেকে পাড়ার চায়ের দোকানেই মানুষের উপস্থিতি বেশি। এক্ষেত্রে প্রবীণ ও তরুণদের মধ্যে খুব একটা পার্থ্যক্য চোখে পড়েনি। মসজিদে জুমআ ও অন্যান্য দিনে ইমাম সাহেব, মুয়াজ্জিন ও দুই একজন মুসল্লি ছাড়া অধিকাংশ মুসল্লিকেই মাস্ক ছাড়া নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। ইমামরা অবশ্য মাস্ক পরার কারণ হিসেবে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের আনুগত্যকেই বড় করে দাবি করেন।

যাইহোক, মানুষের একটা অংশের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধিতে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অনেকে করোনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব দেখছেন। প্রশ্ন হচ্ছে- ইতোপূর্বে জনস্বাস্থ্যগত কিছু বিষয় যেমন স্যানিটেশন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, শিশু সুরক্ষা, গণহারে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য কিছু সংক্রমণ রোগ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করেছে যেখানে সেবা বৃদ্ধির সাথে সাথে গণমানুষের মধ্যে সচেতনতাও কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলো। তাহলে করোনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিতে কেন মানুষের অনাগ্রহ বা সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে? অন্যকথায়, মানুষের মধ্যে কখন স্বাস্থ্যগত বিষয়ে সচেতনতা কাজ করে আর কখন করেনা? নিবিড় সামাজিক গবেষণার মাধ্যমে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যেতে পারে। তবে বিষয়টি আপাতত: দু’টি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে - প্রথমত, সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক। 
সামাজিক-সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক অনুশীলন একইসাথে তাদের স্বাস্থ্যগত চর্চাকে প্রভাবিত করে। চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানীরা আফ্রিকার একটি সমাজে গবেষণা করে দেখান যে, স্থানীয় দু’টি ধর্মীয় গোষ্ঠীর যৌন চর্চা বা সাংস্কৃতিক অনুশীলনের ভিন্নতার কারণে এইচআইভি-এর সংক্রমণ ভিন্ন ছিলো। আবার মোজাম্বিকের একটি সমাজে দেখা গেছে যে, অন্যান্য অঞ্চলের থেকে এইচআইভি-এর সংক্রমণ বেশি হওয়ার কারণ অবাধ যৌনাচার নয় বরং ১৮ বছরের নিচে কন্যশিশুকে বিয়ে দেয়ার রীতির কারণে। আবার কিছু সমাজে দেখা যায়, কেউ অসুস্থ্য হলে চিকিৎসকের আগে শামান বা ধর্মীয় ব্যক্তির কাছে নেয়া হয় বিভিন্ন রিচুয়াল/দোয়া/তাবিজের মাধ্যমে সুস্থ্য করার জন্য। এভাবে মানুষের স্বাস্থ্য, অসুস্থতা, রোগ ও আরোগ্যে তার সাংস্কৃতিক বিশ্বাস ও আচরণের প্রভাব রয়েছে। সে অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের কিছু বয়ান (ন্যারেটিভ) বিশ্লেষণ করলে বর্তমান করোনা প্রেক্ষাপটও কিছুটা বুঝতে পারা যায়। যেমন, গ্রামের একজন লোক স্বাস্থবিধি না মানার কারণ হিসেবে বলছিলেন “আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। পাঁচবার ওজুসহ সর্বনিম্ন হলেও মোট ৮-১০ বার হাত, মুখ এবং পা ধুই। করোনার ময়লা আমাদের শরীরে টিকতে পারেনা কারণ ওজু আমাকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে”। আরেকজন কৃষকের যুক্তি হচ্ছে “করোনা তীব্র রোদ ও ঘাম সহ্য করতে পারেনা”। অনেকে ধর্মীয় বা পূর্বনির্ধারণবাদীবা ভাগ্যবাদী বিশ্বাস দ্বারাও প্রভাবিত। ‘আল্লাহ যাকে দিবেন সে স্বাস্থ্যবিধি মানলেও তার হবে। জন্ম মৃত্যু তো তিনি আগেই লিখে রেখেছেন’। কিন্তু মানুষের হায়াতও যে বাড়তে পারে তার প্রমাণ বাংলাদেশের বর্তমান গড় আয়ু। 
  
নৃবৈজ্ঞানিক এবং সমাজবৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলি দেখায় যে, একটি নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মানুষেরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, এমনকি বিজ্ঞানের থেকেও শত-সহস্র বছর ধরে পরীক্ষিত নিজেদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের উপরই বেশি নির্ভর করে এবং সমজাতীয় দল/গোষ্ঠীর মধ্যে দলগত (কালেক্টিভ) আচরণ করে। যেমন, পাহাড়িরা মনে করে,‘জঙ্গলই মঙ্গল’। ফলে, কোন আরোপিত বিধি যদি বহুকাল ধরে চলে আসা সামাজিক নীতি ও চর্চার বিরুদ্ধে যায় তবে সমাজ থেকে তার প্রতি একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে এবং মানুষের প্রচলিত আচরণ পরিবর্তন করা কঠিন হয়। যেমন, ভারতের ওডিশাতে পরিচালিত এথনোগ্রাফিক গবেষণা দেখাচ্ছে যে, সেখানকার মানুষ বহুকাল ধরে খোলা জায়গায় মলত্যাগ করতো এবং এর সাথে তাদের পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা-অপবিত্রতাসহ অনেক সাংস্কৃতিক চর্চা জড়িত ছিলো। এ কারণে অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার প্রস্তাবিত পায়খানা তারা ব্যবহার করতে চায়নি।

‘সামাজিক দূরুত্ব’ শহরে কিছুটা বাস্তবায়ন করা গেলেও গ্রামে তা সম্ভব হচ্ছে না কারণ গ্রামের মানুষ শহরের মানুষের তুলনায় অনেকবেশি নিবিড় সামাজিক সম্পর্কে আবদ্ধ এবং পরস্পরের সামাজিক যোগাযোগ ও নির্ভরশীলতা অর্থাৎ ‘সামাজিক সংহতি’ অনেক বেশি। প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ডুর্খেইমের সামাজিক সংহতির তত্ত্ব অনুযায়ী, সামাজিক সংহতি মানুষকে নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে ঘনিষ্ঠ করে এবং তাদের মধ্যকার সামাজিক দূরুত্ব হ্রাস করে।
 
আবার মানুষের মধ্যে যেহেতু দলগত (কালেকটিভ) আচরণের এবং অন্যকে অনুকরণের প্রবণতা রয়েছে সুতরাং সমজাতীয় বহু মানুষের মাস্ক ব্যবহারের অনীহাও এই দলীয় আচরণেরই অংশ অর্থাৎ একদল লোক মনে করেন ‘যেহেতু আশে পাশে কেউ মাস্ক পরেনা, আমি একা পরে আর কী করবো!’ এছাড়া, আমাদের দেশে বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসের উষ্ণ আবহাওয়াতে রৌদ্রের মধ্যে কাজ করা শ্রমিক যেমন, ভ্যান-রিকশা চালক, কৃষি শ্রমিকরা মাস্ক পরে কাজ করতে শারিরিকভাবে অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে, তাদের মাস্ক না পরতে দেখে তাদের পরিবারের সদস্যরাও প্রভাবিত হয়।

নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ মনে করেন করোনা শহুরে বা ধনী মানুষের রোগ। নিজ সামাজিক অবস্থান থেকে এমন ধারণা তৈরি হওয়ার পিছনে অবশ্য গণমাধ্যমেরও ভূমিকা রয়েছে। করোনা বিষয়ক সংবাদগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় শহুরে ঘটনা বা দৃশ্যপট দেখানো হয়। বিশেষ ধনী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের করোনা আক্রান্ত হওয়ার তথ্য ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। এসব প্রতিবেদনে গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও সংকট আলাদাভাবে গুরুত্ব পায়না। ফলে ঐসব তথ্যের সাথে গ্রামের মানুষ তাদের প্রাসঙ্গিকতা পায়না। এমনকি অনেক সচেতনতামুলক প্রচারণা যেমন বিজ্ঞাপন বা ডকুমেন্টারিতে দেখানো হচ্ছে যে, অফিসে একজন মানুষ কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানবে বা বহুতল ভবনের লিফট বা সিড়িতে কিভাবে চলাফেরা করবে ইত্যাদি। এসব তথ্যে আসলে গ্রামের কৃষক নিজের সাথে কোন মিল পায়না। এছাড়া, লকডাউনের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ আর্থিকভাবে তুলনামুলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এজন্য তারা লকডাউনকে তাদের জন্য দুর্যোগ ও ধনীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে।

অন্যদিকে, মানুষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করলে কিছু মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানার পেছনে রাজনৈতিক কারণও লক্ষ্য করা যায়। সমসাময়িক সমাজতাত্ত্বিকরা মনে করেন যে, সমাজে যদি বহু রাজনৈতিক গোষ্ঠী  থাকে সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যের উপর কিছু মানুষের আস্থা যেমন থাকবে আবার কিছু মানুষের আস্থার ঘাটতিও থাকবে। এর ফলে এক দল যেমন এসব কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক বিষয় নিয়ে ভাববেন, আবার আরেক গোষ্ঠী তার নেতিবাচক বিষয় নিয়েও ভাববেন। যেমন, জম্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দেখা যায়; এক পক্ষ এর পক্ষে বললে অন্যপক্ষ এর বিরোধিতাও করেন। 
 
আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকেরা সরকারের করোনা বিষয়ক সিদ্ধান্তের বিষয়ে রাজনীতি রয়েছে বলে মনে করেন। যেমন, সামাজিক মাধ্যম, চায়ের দোকান, এমনকি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় নিজেরাই আলোচনা শুরু করেন এই বলে যে,  ‘সরকার আন্দোলন ও বিরোধী শক্তিকে দমন করার জন্য লকডাউন দিয়েছে’; ‘আওয়ামীলীগ সরকার আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য লকডাউন দিয়েছে’; ‘সরকার ইচ্ছামত করোনার তথ্য তৈরি করে’, ইত্যাদি। 

এসব বার্তা ঐসব রাজনৈতিক দলের সাধারণ সদস্যদের করোনা বিষয়ক জ্ঞান ও আচরণের উপর প্রভাব ফেলে। সাধারণ মানুষের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির রকমারি তথ্য দ্বারাও দ্বিধান্বিত বা প্রভাবিত হয় এবং চায়ের দোকানে বা আড্ডায় এগুলি নিয়ে তর্ক ও কখনো কখনো বিবাদ করতেও দেখা যায়। যেমন, কারো কারো মতে এই লকডাউন ‘পলিটিক্যাল লকডাউন’ যা কিছু মানুষ বিশ্বাস করে নিয়েছে। আবার অনেকে এই ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন, যে লকডাউনের নামে সরকার মসজিদে মানুষের যাওয়া কমিয়ে দিচ্ছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। এসব তথ্য গ্রামের এমনকি শহরেরও অনেকে বিশ্বাস করছে যার প্রভাব তাদের আচরণেও পড়ছে। অর্থাৎ বিশ্বাস মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করছে।

অতএব, বাংলাদেশে পল্লী অঞ্চলের বা নিম্ন আয়ের মানুষকে ঢালাওভাবে অযৌক্তিক বা অসচেতন না ভেবে আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতা অনুধাবন করা জরুরী। সব এলাকার জন্য সব ব্যবস্থাকে সাধারণীকরণ না করে বরং ‘সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ (কনটেক্সট এনালাইসিস)’-এর মাধ্যমে বের করতে হবে কোন এলাকার জন্য কোন ব্যবস্থা কাজ করবে। আর এজন্য করোনা বিষয়ক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তসমূহকে আরো বাস্তবসম্মত করার জন্য সামাজিক গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের আচরণগত, জনতাত্ত্বিক, আর্থ-সামাজিক প্রভৃতি বিষয়গুলি অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।

আমিনুর রহমান, গবেষক, সোশ্যাল এন্ড জেন্ডার ডিভিশন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল রিসার্চ (বিআইএসআর) ট্রাস্ট। ইমেইল:[email protected]  

Kabir Steel Re-Rolling Mills (KSRM)
Rocket New Cash Out
Rocket New Cash Out
bKash
Community Bank