অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

পিৎজা খাওয়ানোর চুক্তিতে বিয়ে

সাতরং ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:০০ পিএম, ১৭ জুলাই ২০২২ রোববার  

বিয়েতে নবদম্পতির মধ্যে কত কিছু বিষয়েই না সমঝোতা হয়। সবই মৌখিক সমঝোতা। যারা চাকরি করেন তাদের মধ্য সমঝোতা বা বোঝাপড়া এক ধরনের। তাই বলে পিৎজা খাওয়ানোর চুক্তিতে বিয়ে? বিষয়টা শুনতে অবাক লাগলেও এমনই একটি আশ্চর্যচুক্তিতে বিয়ের সাক্ষী ভারতের আসামের গুয়াহাটি।

স্বাভাবিক চুক্তির মতো না হওয়ায় সেই চুক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিয়ের পর কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না, এমন একটি মজার তালিকায় সই করেছেন ওই নবদম্পতি। এই তালিকা তৈরিতে সাহায্য করেছেন বর ও কনের বন্ধুরা। 

বিয়েতে বন্ধুদের নিয়ে এমন চুক্তির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। তবে তাদের চুক্তির শর্তগুলো মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চুক্তির প্রথম দফাটি হলো “প্রতি মাসে শুধু একটি পিৎজা”।

বিয়ের সময় চুক্তি করে মাসে একটি পিৎজা খাওয়ার প্রতিশ্রুতি চাওয়া কনের নাম শান্তি প্রসাদ। তার বয়স ২৪ বছর। শান্তির বন্ধুরা তাঁকে একজন পিৎজাপ্রেমী হিসেবে বর্ণনা করেন। কলেজে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো মিন্টু রায়ের (২৫) সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যের গোহাটিতে প্রথা মেনেই তাদের বিয়ে হয়েছে।

বিয়ের আগের সপ্তাহে এই চুক্তির খসড়া করা হয়। সেখানে পিৎজা খাওয়া ছাড়াও আরও কিছু বিষয় ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি শর্ত হলো, প্রতি রবিবার মিন্টুকে সকালের নাশতা বানাতে হবে, ১৫ দিন অন্তর শান্তিকে কেনাকাটা করতে নিয়ে যেতে হবে এবং শুধু শান্তিকে নিয়েই মধ্যরাতের কোনো পার্টিতে যেতে পারবে মিন্টু। এ ছাড়া পিৎজা অক্ষত হতে হবে, শান্তিকে প্রতিদিন ব্যায়ামাগারে যেতে হবে ও শাড়ি পরতে হবে। কারণ মিন্টুর মতে, “শাড়ি পরলে শান্তিকে অনেক সুন্দর দেখায়।”

আসামের রাজধানী শহর গোহাটিতে মিন্টু রায়ের ইলেকট্রিক পণ্যের একটি দোকান আছে। তিনি বলেন, “আমরা কলেজে থাকার সময় শেষ ক্লাসটি ফাঁকি দিয়ে কাছের পিৎজার দোকানে যেতাম। আমি এটা জানতাম যে তাকে আমার পিৎজার দোকানে নিয়ে যেতে হবে। কারণ, সব সময় পিৎজা সম্পর্কে নানা কথা বলত।”

শান্তি বলেন, “পিৎজা আমার খুবই পছন্দ। তার সঙ্গে কোথাও ঘুরতে গেলেই আমি সব সময় বলতাম, চলো কোথাও গিয়ে পিৎজা খেয়ে আসি।’ কিন্তু কিছুদিন পর মিন্টু অভিযোগ জানাতে শুরু করে। পিৎজা পছন্দ হলেও প্রতিদিন তা খেতে চাইত না। শান্তির কথায় মিন্টু বলতেন, ‘আর কত পিৎজা, এবার চলো অন্য কিছু খাই।”