অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

সব শিক্ষার্থীকে হলে তুলতে সিদ্ধান্ত শিগগিরই: ঢাবি ভিসি

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ৫ অক্টোবর ২০২১ মঙ্গলবার  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সব শিক্ষার্থীকে তুলতে এবং পুরোদমে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) হল খোলার দিন বিজয় একাত্তর হল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীকে হলে তুলতে এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত শিগগিরই নেয়া হবে। আমরা প্রাথমিকভাবে অনার্স ফাইনাল ইয়ার ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছি। করোনার হার নিচের দিকে আছে। অন্যদিকে টিকা গ্রহণের হার বাড়ছে। সব বিবেচনায় নিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তক্রমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। আশা করছি, এক-দুদিনের মধ্যেই আমরা বসতে পারব।’

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত কোনো ধরনের আন্দোলনের ভয় থেকে নেয়া হয়নি বলেও জানান আখতারুজ্জামান। বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন সংগ্রাম, গণতন্ত্র, নেতৃত্বের চর্চা হয়। শুধু অ্যাকাডেমিক কারিকুলারে এ বিশ্ববিদ্যালয় সীমাবদ্ধ থাকে না।

**১৮ মাস পর খুললো ঢাবির হল

হলগুলোতে গণরুম সমস্যা নিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘গণরুম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত একটি সমস্যা। এটি নতুন কোনো সৃষ্ট সমস্যা নয়। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখনও এটা ছিল। শিক্ষার্থীদের ভালো মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে এই গণরুম হলো প্রতিবন্ধকতা।’

সব শিক্ষার্থী ও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সহযোগিতা থাকলে গণরুম সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করেন উপাচার্য।

উপাচার্য বলেন, ‘সবাই যদি তাদের নিজের ক্ষেত্র থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তবে হলগুলোর গণরুমে শিক্ষার্থীদের ঠাসাঠাসি করে থাকতে হবে না। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র শিক্ষার্থীদেরও বেশ কিছু দায়িত্ব আছে। শতবর্ষে এসে গণরুম না থাকার যে মহৎ সিদ্ধান্তটি হাতে নিয়েছি সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, যদি সবার সহযোগিতা থাকে। ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে শেখ হাসিনাও এই গণরুম মোটেও পছন্দ করছেন না। শিক্ষার্থীদের জীবন মানে ঘাটতি পড়ুক, গণরুমের মতো প্রতিকূল পরিবেশ থাকুক এটা তিনি চাননা।’

করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেড় বছর পিছিয়ে পরায় সেশনজটের বিষয়টি কাটিয়ে উঠতে ‘লস রিকোভারি প্ল্যান’ করা হয়েছে বলেও জানান আখতারুজ্জামান।ৎ

দেড় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর খুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো। দীর্ঘদিন পর হলে উঠতে পারায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকাল ৮টায় খুলে দেয়া হয় হল। দরজা খুলতেই ভেতরে প্রবেশে হুমড়ি খেয়ে পড়েন আগে থেকেই গেটের সামনে অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীরা। ফুল, মিষ্টি, চকলেট দিয়ে তাদের বরণ করেন হলের হাউস টিউটর ও কর্মকর্তারা।

হলে প্রবেশের আগে শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার সনদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখাতে হচ্ছে।

পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হলে আপাতত প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের। এসব শিক্ষার্থীদের অন্তত করোনারোধী একডোজ টিকা নেয়ার সনদ দেখাতে হচ্ছে।