সোমবার   ২২ জুলাই ২০২৪ || ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ || ১২ মুহররম ১৪৪৬

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

সাফল্য সংলাপ-এ দিলীপ কুমার আগরওয়াল

আজ অনেক বাঙালি নারীর একটি হীরের নাকফুল হলেও আছে

বিশেষ সংবাদদাতা

১১:৫৩, ১৩ জুন ২০২১

আপডেট: ১৮:০৪, ১৩ জুন ২০২১

১৭০০

সাফল্য সংলাপ-এ দিলীপ কুমার আগরওয়াল

আজ অনেক বাঙালি নারীর একটি হীরের নাকফুল হলেও আছে

দিলীপ কুমার আগরওয়াল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড
দিলীপ কুমার আগরওয়াল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড

দিলীপ কুমার আগরওয়াল। দেশের একজন কমার্সিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (সিআইপি)। তিনি দেশের অন্যতম হীরক ব্যবসায়ী। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড'র সত্ত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অলঙ্কারপ্রিয় বাঙালি নারীর জন্য তাদের সাধ্যের মধ্যে এনে হীরে পরার সাধ পূরণে এই ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে। বলা হয় বাংলাদেশের ডায়মন্ড জুয়েলারি ব্যবসায়ের মশাল বহনকারী এই দিলীপ কুমার আগরওয়াল। সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে অপরাজেয়বাংলার মুখোমুখি হন তিনি। শোনান এক স্বপ্ন পূরণের গল্প।

বলছিলেন, একটা সময়ে এদেশের অধিকাংশ মানুষই জুয়েলারি বলতে সোনা কিংবা রূপার অলংকারকেই বুঝতো। হীরে তাদের কাছে সপ্নের মতো মনে হতো। সেটা মূলত এর দামের জন্যই। আর সহজে পাওয়াও যেতো না। সেই অবস্থা থেকে জুয়েলারি জগতে হীরের বাজার তৈরি সত্যিই চ্যালেঞ্জিং ছিল।

"অলংকার একটি স্থায়ী সম্পদ, তেমনটাই মানুষ ভাবে। মধ্যবিত্তের কাছে অংলকার কেনাটা সঞ্চয়েরও সামিল। ফলে এই শ্রেণির গ্রাহকরা অনেক চিন্তা ভাবনা করেই অংলঙ্কার কেনেন। তাতে যুগ যুগ ধরে চলে আসা রীতি রেওয়াজ হচ্ছে স্বর্ণ ও রৌপ্যে নির্ভর। সেই রেওয়াজের বাইরে গিয়ে, সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর এবং দামে বেশি একটি পণ্যের বাজার তৈরি করা, মানুষের আস্থা অর্জন করা, সেটিকে সেবার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং সর্বোপরি বিনিয়োগ ঝুঁকি নেওয়া এ ছিলো সম্পূর্ণ অন্ধকারের ঢিল ছোড়ার মতো।"

আগরওয়াল বললেন, গুলিটা নির্ভুল নিশানায় লেগেছে বলা যেতে পারে। কারণ এতে আমি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ক্রেতা হিসেবে টার্গেট করতে চেয়েছি। অর্থাৎ সবার জন্য হীরার গহনা সহজলভ্য করা। যা কাজে দিয়েছে। আমি বলতে পারি, গয়না ভালোবাসে এমন মানুষের ৯০ ভাগ মানুষের কাছে এখন হীরার গহনা পৌঁছে গেছে। কম করে হলেও অন্তত একটা হীরার নাকফুল বাঙালি নারী পরতে পারে।

তবে সরকারের উচ্চ হারের শুল্ক আরোপকে এক্ষেত্রে প্রধানতম বাধা হিসেবে দেখছেন এই ব্যবসায়ী। তিনি বললেন, ডায়মন্ডের আমদানি শুল্ক যদি ১৬০% না হতো তাহলে মানসম্মত ডায়মন্ড জুয়েলারি শতভাগ মানুষের হাতের নাগালে পৌছে দেওয়া সম্ভব।

শুল্কের এই উচ্চ হার নিয়েই বাজারে আরও বেশি স্থায়ীত্ব কিভাবে আনা যায় সে লক্ষ্যে তাদের চিন্তাভাবনা রয়েছে। আর সে কারনে ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও)-শেয়ার মার্কেটে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডকে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানালেন দিলীপ কুমার আগরওয়াল। বললেন, একটি সুবিধাজনক সময়ে তারা নিজেদের শেয়ারমার্কেটে চলে আসার ঘোষণা দেবেন।

জুয়েলারি ব্যবসার ভূত ও ভবিষ্যত অনেকটা নখদর্পণে দিলীপ আগরওয়ালের। তিনি বলেন, মুদ্রা ব্যবস্থার প্রচলনেরও আগে যখন বিনিময় ব্যবস্থা ছিল তখনও বিশ্বের দেশে দেশে অলংকার বা অলংকার তৈরির কাঁচামালের গুরুত্ব ছিল। কেবল সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যই এই গুরুত্ব তা নয়, এই সম্পদ আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদাকেও বাড়িয়ে দেয়। স্বর্ণের মজুদ দিয়ে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি নিরূপণ করা হয়। কিন্তু এখানে মজুদ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা ফারাক আমরা দেখতে পাই। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরিশোধিত সোনার মজুদ সবচেয়ে বেশি। কিন্তু স্বর্ণ থেকে অলংকারের ব্যবহারে বিশ্বে এগিয়ে রয়েছে ভারত। আবার সবচেয়ে বড় গোল্ড মার্কেট কিন্ত দুবাইয়ে। আফ্রিকান দেশগুলো ডায়মন্ড সমৃদ্ধ হলেও ব্যবহারে পিছিয়ে। মেশিনে তৈরি জুয়েলারিতে আবার তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এগিয়ে। আবার হ্যান্ড মেইড জুয়েলারিতে বাংলাদেশ তথা এশিয়ান কারিগররা বিশ্বমানের। সব মিলিয়ে অলংকারের ব্যবসা মানেই এসব নিয়ে সম্যক ধারণা রাখা। সেক্ষেত্র এক কথায় বলবো বাংলাদেশে এই পণ্যের ভবিষ্যত বাজারটি মন্দ নয়।

এক্ষেত্রে সমস্যা যেমন দেখিয়েছেন সম্ভাবনাগুলোকেও বড় করে দেখাতে পছন্দ করেন দিলীপ আগরওয়াল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জুয়েলারি ব্যবসব ভ্যাট, আমদানি শুল্ক, উপকরণ কর রেয়াত, দাপ্তরিক জটিলতা, ব্যাংক ঋণ এ সবের অপ্রতুলতাসহ কিছু অব্যবস্থায়পনা থাকলেও সরকারের নেওয়া স্বর্ণ নীতিমালার কারণে সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে এসেছে।

আমরা আশা করছি বাকী সমস্যাগুলোও ধীরে ধীরে সমাধান সম্ভব হবে। কারণ এই সেক্টরের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজেরই সুনজর রয়েছে, বলেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই'র নেতৃত্বে রয়েছেন দিলীপ কুমার আগরওয়াল। সমিতির একজন অন্যতম পরিচালক তিনি। এতে তার পক্ষে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়ে উঠেছে। এই হীরক ব্যবসায়ী মনে করেন তার ব্যবসায়িক জীবনের পূর্ণতা এসেছে ফেডারেশন এর ডিরেক্টরশিপের মাধ্যমে।

"গত ছয় বছর আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য আমার সময়, মেধা, শ্রম ও সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছি। তাছাড়া আমি বাংলাদেশ ডায়মন্ড মার্চেন্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ জেমস স্টোন মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্বও পালন করছি। তবে কতটুকু কী করতে পেরেছি তা মূল্যায়নের দায়িত্ব ফেডারেশনের সকল মেম্বার ও ফেডারেশনের আমার সহকর্মীদের।"


ব্যবসাকে স্রেফ মুনাফা অর্জনের উপায় হিসেবে দেখতে নারাজ এই হীরক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখা সম্ভব। গত সাত বছর ধরে নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গার সেরা করদাতার সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি। দিলীপ আগরওয়াল বলেন, এর অর্থ হচ্ছে একটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর আমিই দিয়েছি। আর এই করের উৎস আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

ব্যবসার বিস্তার সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সাড়া দেশে ডায়মন্ড ওয়াল্ডের্র ২৫ টি শোরুম রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে গোল্ড ডিলারের লাইসেন্স দিয়েছে, লাইফ স্টাইল রিলেটেড শোরুম প্রেমস কালেকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। একটি মিডিয়া হাউজ পরিচালনা করছেন, একটি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক হিসেবেও রয়েছেন। এছাড়াও রয়েছে আরো বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ী উদ্যোগ।

এই সকল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপশি সকল উদ্যোগই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে, বলেন তিনি।

ভবিষ্যতে আর কি করতে চান? সে প্রশ্নে জানালেন, পরিকল্পনা রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অর্গানিক ফার্ম স্থাপন করা।

"আমি প্রতিটি চেম্বারকে সম্পৃক্ত করে স্থানীয় জনসম্পদ ও রির্সোস ব্যবহার করে এবং উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দেশীয় চাহিদা পূরণ করে বিদেশে অগার্নিক পণ্য রপ্তানি করতে চাই।"

অতি সম্প্রতি বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক নামের একটি নতুন প্রজন্মের বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন দিলীপ আগরওয়াল। একটি নতুন ট্রেন্ডে বিনিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে প্রতিটি ব্যবসায়ীই কম বেশি সম্পর্কিত। ব্যবসায়ীদের প্রকৃত বন্ধু ব্যাংক। আগে গ্রাহক হিসেবে সেবা নিতাম, এখন সেবা দিতেও পারবো। আর আমাদের বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের উদ্দেশ্যই হলো শতভাগ সেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করা এবং সর্বোপরি এক আধুনিক ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌছে দেওয়া।
 
ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকটি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে সকল ক্ষেত্রেই। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে দিলীপ আগরওয়ালার সেদিকেও রয়েছে সমান অবদান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সামাজিক কার্যকলাপের সাথে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সামাজিক-ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

সে প্রসঙ্গে জানাতে গিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন,  আমি দীর্ঘ দিন যাবৎ আমার নিজ এলাকা চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছি। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছি।

"আমরা কেউই চিরদিন বেঁচে থাকবো না। আমি চাই না আমার মৃত্যুর সাথে সাথে এ ধরণের ভালো উদ্যোগগুলোরও মৃত্যু হোক। তাই আমি তারা দেবী ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছি যেখান থেকে মূলত সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তি সহায়তায় বিভিন্ন সেবা মূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।"

দেবী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে যা কিছু করা হচ্ছে:

শিক্ষা ক্ষেত্রে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত বৃত্তি দেওয়ার পাশাপাশি কুষ্টিয়া জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কলেজ দোয়ারকা দাস আগরওয়াল মহিলা কলেজের সকল ছাত্রীদের বেতন গত ১০ বছর ধরে পরিশোধ করছেন দিলীপ আগরওয়াল। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরার অতি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং ‘মিড ডে মিল’ এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে তারই সহায়তায়।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবদান রাখতে মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘তারা দেবী ফাউন্ডেশন’। সেখান থেকে গর্ভবতী, প্রসূতি মা ও নবজাতক, মুক্তিযোদ্ধা, সিনিয়র সিটিজেনদের চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়াতে ৪টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বছরের বিভিন্ন সময়ে ‘ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প’র মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত মানুষদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

ধর্মীয় ক্ষেত্রে এক যুগেরও বেশী সময় ধরে দুঃস্থ ও দরিদ্র জনগণের মাঝে নিয়মিত ঈদ পোশাক ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে আসছে দিলীপ আগরওয়ালের প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও রমজান মাসে নিজ জেলাসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় দুঃস্থ ও অভাবী মানুষদের জন্য ইফতারির ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় নিয়মিত আর্থিক ও শিক্ষা সহায়তা দেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন মন্দিরের সংস্কার কাজ এবং পূজা উদযাপনে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গার কেন্দ্রীয় শ্বশানটি পরিচালিত হচ্ছে তারই আর্থিক অনুদানে।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান হিসেবে চেক তুলে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্নভাবে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রংপুর সহ বিভিন্ন জেলায় মানুষের কাছে নগদ অর্থ, খাদ্য, চিকিৎসা সেবা সামগ্রী, স্বাস্থ্য সেবা সামগ্রী নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে পৌছিয়ে দেয়া হয়েছে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার পক্ষ থেকে।  

দিলীপ কুমার আগরওয়াল একজন লেখকও বটেন। তার লেখা বেশ কয়েকটি বই এরই মধ্যে বাজারে রয়েছে। যেগুলোর প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা। তিনি বলেন, মূলত হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও লেখালেখি করি মনের খোরাক মেটাতে। ২০১৭ সালে অমর একুশে বই মেলায় তার প্রথম বই 'অদম্য বাংলাদেশ' প্রকাশিত হয়। পরের বছর ২০১৮ সালে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' ও 'সম্ভাবনার বাংলাদেশ' নামে দুটি বই বাজারে আসে। ২০১৯ সালে তিনি লেখেন 'অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ' এবং ২০২০ সালে তার অপর বই 'অগ্রসর বাংলাদেশ' প্রকাশিত হয়।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে আবারো আসে জুয়েলারি শিল্প প্রসঙ্গ। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের তরফ থেকে কি সুবিধা মিলছে, আর কি ধরনের সুবিধা দিলে দেশে এ ধরনের ব্যবসার আরও বিকাশ ঘটবে? এমন প্রশ্নের দিলীপ কুমার আগরওয়াল বর্তমান সরকারকে ব্যবসা বান্ধব সরকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, "বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য বর্তমান সরকার সারাদেশে বিশেষ ইকোনোমিক জোন তৈরির কাজ করছে। ব্যাংক ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এগুলো সবই ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ।"

জুয়েলারি শিল্পের জন্য একটি স্পেশাল জোন তৈরির করতে জমি বরাদ্দ ও অবকাঠামো নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা চান এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, 'পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা ও সহজে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে এবং একই সাথে বিদ্যমান জটিলতার অবসান ঘটিয়ে জুয়েলারি শিল্পের জন্য একটি ব্যবসা বান্ধব ও টেকসই রূপকল্প প্রণয়ন করা হলে আমরা নিরাপদে ও সহজে এ ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারবো। রপ্তানি বাণিজ্যে অবদান রাখতে পারবো।'

"বাংলাদেশ এখন একটা ভালো ও সম্ভাবনাময় বাজার, এখানে আছে সহজলভ্য শ্রম, আছে ব্যাংকের হাতে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা আর অনেক সফল ব্যবসায়ী। বাজার মূলধন, শ্রমিক আর উদ্যোক্তা এই তিনের সমন্বয় ঘটলে এবং যথার্থ পরিবেশ পেলে, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশ একটি অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠবে।"

নতুন যারা ব্যবসায়ে আসছেন, তরুণ উদ্যোক্তা যারা তাদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন? এই প্রশ্নে দিলীপ আগরওয়ালের মন্তব্য, "২০০৫ সালেও আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ছিলাম। সেখান থেকে আজ আমি এখানে পৌঁছেছি শুধু চারটি কারণে- প্রথমতঃ স্বপ্ন। আমি স্বপ্ন দেখতাম বড় ব্যবসায়ী হবার। দ্বিতীয়তঃ কমিটমেন্ট। আমি যদি কোন কমিটমেন্ট করি তবে তা রক্ষা করে চলি। তৃতীয়তঃ কঠোর পরিশ্রম। যার কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। আর চতুর্থতঃ টাইম ম্যানেজমেন্ট। এটাই মূল নীতি। তরুণরা এটা মেনে চললে সফল হবেই।" 

Kabir Steel Re-Rolling Mills (KSRM)
Rocket New Cash Out
Rocket New Cash Out
bKash
Community Bank
খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত