বৃহস্পতিবার   ১৭ জুন ২০২১ || ৪ আষাঢ় ১৪২৮ || ০৫ জ্বিলকদ ১৪৪২

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে ৪৫% অবচয় সুবিধা চায় বারভিডা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

১৫:১৯, ৯ জুন ২০২১

১১৩

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে ৪৫% অবচয় সুবিধা চায় বারভিডা

২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের অর্থনীতি পুনরূদ্ধার ও গতি সঞ্চার, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে উজ্জীবিত রাখতে যেসব সহায়তা প্রস্তাব করা হয়েছে বারভিডা (বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলার্স এসোসিয়েশন) তাকে স্বাগত জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মাইক্রোবাস এবং হাইব্রিড কার ও জিপ (১৮০১ সিসি থেকে ২৫০০ সিসিপর্যন্ত) আমদানিতে শুল্ক পূণর্বিন্যাস তথা কমানোয় বারভিডা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। বারভিডার প্রস্তাবকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নসিমন, লেগুনা ইত্যাদি অনিরাপদ যান চলাচল নিরুৎসাহিত করে গণপরিবহন হিসেবে মাইক্রোবাসকে স্বীকৃতি দেয়ায় বারভিডা অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। তবে গণপরিবহন হিসেবে বহুল ব্যবহৃত ১০-১৫ আসন সেগমেন্টের মাইক্রোবাস (এইচ এস কোড ৮৭.০২), যানগর ও গ্রামীণ জীবনে বিশেষ প্রভাব রাখছে তা আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক সম্পুর্র্ণ প্রত্যাহারের জন্য বারভিডার আবেদনটি গৃহিত না হওয়ায় তা প্রত্যাহারের জন্য বারভিডা সরকারের কাছে আহবান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বারভিডা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আবদুল হক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন। সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং সাধারণ সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।  

বারভিডা সেক্রেটারি জেনারেল বলেন যে, রিকন্ডিশন্ড মোটর যান আমদানির ক্ষেত্রে তারা যে ৪৫% অবচয় সুবিধা এবং বছরভিত্তিক অবচয় সুবিধা চেয়েছিলেন তা প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভূক্ত না হওয়ায় সুবিধাটি প্রদানের জন্য তারা জোর দাবি জানাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা প্রস্তাবিত বাজেটকে উদ্যোক্তা বান্ধব, শিল্পবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে বলেছে যে, 

- করোনা মহামারি মোকাবেলায় ভ্যাকসিনেশনএবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বেশ ইতিবাচক।
- করোনা মহামারির কারণে দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাওয়া জনগোষ্ঠি এবং নতুন দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আকার ও আওতা বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
- দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কর ছাড়সহ যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা যায়। 
- কৃষিখাতে প্রণোদনার পাশাপাশি কৃষিযন্ত্র আমদানিতে অগ্রিম কর এবং উৎপাদনে ভ্যাট তুলে দেয়ার প্রস্তাব সাধুবাদ পাবার যোগ্য।  
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক টার্ণওভার ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

করোনা মহামারি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ দিক নির্দেশনা এবং সরকারের দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গত অর্থবছরে এশিয়ার সর্বোচ্চ ৫.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা একটি স্বস্তি এবং গর্বের বিষয় বলে বারভিডা উল্লেখ করে। তবে প্রস্তাবিত বাজেটের সঠিক বাস্তবায়নে বর্তমান মহামারি পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং কাঙ্খিত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাপনায় সৃজনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষ জরুরি বলে বারভিডা জানিয়েছে। পাশাপাশি বাজেট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষতা এবং যথাযথ মনিটরিংয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলে বারভিডা মত প্রকাশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশে গ্র্যাজুয়েশনের এই তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশে নতুন গাড়ির শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নে গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ প্রয়োজন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি’র (জাইকা) মতে গাড়ির অভ্যন্তরীণ বাজার ১ লক্ষ ইউনিট হলেই দেশে নতুন গাড়ির শিল্প প্রতিষ্ঠা যুক্তিযুক্ত হবে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে এলে বাজার সম্প্রসারণের সাথে সাথে সরকারের রাজস্ব আয়ও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

বারভিডা নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন মূল্যে চরম বৈষম্যের ফলে নতুন গাড়ির চেয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি পরে যাচ্ছে। ফলে ক্রেতা কমে যাচ্ছে, আমদানি হ্রাস পাচ্ছে এবং এ খাতের ব্যবসায়ীবৃন্দ মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ছেন। আমদানি ক্রমাগত কমতে থাকায় যেখানে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ২০,১৪৯ টিএবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ২৩,০৭৫ টি গাড়ি আমদানি হয় সেখানে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে আমদানি কমে ১২,৫০২ টিতে নেমে আসে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরেও আমদানি হ্রাসের ধারা অব্যহ তরয়েছে। আমদানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে সরকারের রাজস্ব আয় ও লক্ষ্যনীয় হারে হ্রাস পেয়েছে।

এছাড়াও বারভিডা সরকারের নতুন গাড়ি শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এ যেন সিকেডি আমদানির মাধ্যমে কোন ‘স্ক্রুড্রাইভিংশিল্প’ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা না নেয়া হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখার আহবান জানিয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির আলোকে দেশে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি খাত যাতে কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে সরকারকে যত্নবান হওয়ার জন্য তারা আহবান জানান।

বারভিডা নেতৃবৃন্দ বলেন যে, করোনা মহামারির ফলে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে স্বাভাবিক একটি বাজেট পেশ করা দুরূহ কাজ। তারপরও প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী জনকল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখা ও জাতিকে আশান্বিত রাখার লক্ষ্যে যে ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট পেশ করেছেন তাকে তারা সাধুবাদ জানান। 

দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সাথে সাথে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের বিপুল ব্যয় পরিচালনা এবং দক্ষতা ও সফলতার সাথে আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বারভিডা যথাযথ রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে সরকারের পাশে থেকে অবদান রেখে যেতে চায় বলে বারভিডা নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন।

লিখিত বক্তব্য শেষে বারভিডা প্রেসিডেন্ট ও সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ জসিম উদ্দিন মিন্টু, ট্রেজারার মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, পাবলিকেশন ও পাবলিসিটি সেক্রেটারি ফরিদ আহমেদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আবু হোসেন
ভূইয়া (রানু), মোঃ জিয়াউল ইসলাম, মোঃ ইউনূছ আলী, মোঃআসলাম সেরনিয়াবাত ও ডা. মোঃ আনিসুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

Dutch-Bangla Bank
TELETALK
খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত