বৃহস্পতিবার   ১৭ জুন ২০২১ || ৪ আষাঢ় ১৪২৮ || ০৫ জ্বিলকদ ১৪৪২

অপরাজেয় বাংলা :: Aparajeo Bangla

সাক্ষাৎকারে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মে. জে. মো. নজরুল ইসলাম

যুদ্ধের কৌশলটাই ভিন্ন ফরম্যাটে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বেপজা’য়

মাহমুদ মেনন, সম্পাদক

১৭:২৫, ২৫ মে ২০২১

আপডেট: ১১:৪২, ২৬ মে ২০২১

১২৪৭

সাক্ষাৎকারে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মে. জে. মো. নজরুল ইসলাম

যুদ্ধের কৌশলটাই ভিন্ন ফরম্যাটে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বেপজা’য়

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বেপজা
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বেপজা

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা)। বাংলাদেশের উন্নয়নে এই বেপজার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও বেপজা দেশের উন্নয়নের একটি অন্যতম প্রতীক। কেমন করছে বেপজা? কিভাবে কাজ করছে? কোন পথে হতে পারে আরও অগ্রগতি? এসব নিয়েই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অপরাজেয় বাংলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন বেপজার কাজ ও সাফল্যগুলো। উত্তর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আরও নানা প্রশ্নের। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন অপরাজেয় বাংলার সম্পাদক মাহমুদ মেনন। তাদের বিস্তারিত আলাপচারিতা এখানে তুলে ধরা হলো। 

মাহমুদ মেনন: মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি অপরাজেয় বাংলার এই উন্নয়ন সংলাপে। আশা করি আমরা আজ উন্নয়ন বিষয়ে কথা বলবো এবং বেপজার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাব। আপনাকে স্বাগতম অপরাজেয় বাংলার অনলাইন স্ক্রিনে যুক্ত হওয়ার জন্য। 

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: আপনাকে ধন্যবাদ আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানো জন্য। এই করোনা মহামারির মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা কথা বলতে পারছি, মানুষ শুনতে পারছে। আপনারা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।

 

মাহমুদ মেনন: করোনা মহামারির মধ্যেও বেপজার বিভিন্ন কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করেছি। কোন কিছুই আসলে থেমে নেই। আমরা বলছি যে দেশ এখন উন্নয়শীলতা থেকে উত্তরণে পথে এবং উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। এই উত্তরণ ও উন্নয়নে পথে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের ভূমিকা কি এবং কতটুকু?

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: করোনা মহামারির সময় পুরো বিশ্বই স্থবির হয়ে আছে। বিশ্বে বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে সে বিনিয়োগ কমেছে ১৯.৫ শতাংশের মতো। এই গানিতিক সংখ্যা থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশের অর্থনীতি এক শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। 

এই করোনার সময়েও দেশের আটটি ইপিজেড সচল রয়েছে। এগুলো সচল থাকার মানে হলো দেশের রফতানি চলমান আছে এবং অর্থনীতির চাকা ঘুরছে। যা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 



চার দশক আগে চারটি প্রধান লক্ষ্য সামনে রেখে বেপজা গড়ে ওঠে। মিশনগুলো ছিল শিল্পায়ন হবে,  বিনিয়োগ হবে, বিনিয়োগের মাধ্যমে বহুমুখী রফতানি হবে এবং কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এই চার লক্ষ্যের আঙ্গিকে যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে বলবো- শিল্পায়নে আমাদের প্রায় ৫৩২ টি ইন্ডাস্ট্রি আছে। গত ১২ বছর এই সংখ্যা ছিল ২৮০টি। এ থেকে বোঝা যায় শিল্পায়ন হচ্ছে। 

আর বিনিয়োগের কথা হিসেব করলে গত দশ বছরে ৩.৬ গুণ বেড়েছে। ২০১০ সালে বিনিয়োগ ছিল ১৫০০ মিলিয়ন ডলার আর ২০২১ সালে তা ৫ হাজার ৪২১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

রফতানি বিষয়ে আমরা আরও ব্যাপকভাবে কাজ করেছি। ২০০৯ সালে রফতানি ছিল ১৭ হাজার মিলিয়ন ডলার সেখানে ২০২১ সালে রফতানি হয়েছে ৮৩ হাজার মিলিয়ন ডলার। 

কর্মসংস্থানও প্রায় দ্বিগুণ। করোনাকালেও আমাদের এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে। সবাই জেনে খুশি হবেন যে করোনাকালে ইপিজেডগুলোতে ৩৩ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আটটি ইপিজেডে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ কাজ করছে। 

সামগ্রিক দৃষ্টিতে তাই বলা যায়, বেপজা শুধু রফতানির ২০ ভাগে অবদান রাখে না, অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ ভূমিকা রাখছে বেপজা। 

মাহমুদ মেনন: আমরা জানি ইপিজেডে দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগের সুযোগ আছে। আমার প্রশ্ন এ ক্ষেত্রে কোনটির পাল্লা ভারি বা কোনটাতে বেশি ফোকাসড আপনারা? একই সাথে বিদেশিদের আগ্রহ আগের তুলনায় কতটুকু বেড়েছে?

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: আগেই বলেছি আমাদের আটটি ইপিজেডে মোট ৫৩২টি প্রতিষ্ঠান আছে। তারমধ্যে এ টাইপ বা সম্পূর্ণ বিদেশি বিনিয়োগের আছে ২৮৪ টি অর্থাৎ ৫৩ শতাংশ । বি টাইপ বা যৌথ প্রযোজনার আছে ৭৪ টি বা প্রায় ১৪ শতাংশ এবং সি টাইপ বা দেশি বিনিয়োগে আছে ১৭৪টি বা ৩৩ শতাংশ।
 
অর্থাৎ ইপিজেডে বিনিয়োগে বিদেশিদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশে স্স্তা শ্রম পাওয়া যায়। তবে সত্যিকার অর্থে এটা একটা উপকরণ মাত্র। আমি একজন বিদেশিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম করোনাকালীন সময়ে এই বিনিয়োগ উৎসাহে কারণে কী?

তিনি উত্তরে বলেন, সত্যিকার অর্থে শিল্পায়নের পুরো বিষয়টি বাংলাদেশ এখনও আয়ত্ব করতে পারেনি। চীন থেকে হংকং দশবছর এগিয়ে আছে, হংকং এর চেয়ে জাপান দশবছর এগিয়ে আছে এবং জাপান থেকে আমেরিকা কিছু ক্ষেত্রে দশবছর এগিয়ে আছে। 

এমন অবস্থায় কোন চীন বা জাপানের নাগরিক যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে তাহলে বুঝতে হবে এখানে এক্সপ্লোর করার অনেক সুযোগ আছে। এছাড়া স্স্তা শ্রম যেমন পাওয়া যায় পাশাপাশি এখানকার মানুষ এখনও অত্যন্ত আন্তরিক এবং পরিষ্কার দিক-নির্দেশনা পেলে সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে বিদেশিরা যথেষ্ট উপকৃত হয়েছেন বলেই আমরা জানি। 

মাহমুদ মেনন: এক দেশ থেকে অন্য দেশে বিনিয়োগে প্রাধান্য পায় কোনগুলো? সরকারের নীতি নাকি স্বস্তা শ্রমের মতো বিষয়গুলো?

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: আমি আগেই বলেছি বাংলাদেশে প্রযুক্তি ব্যবহারে অবারিত সুযোগ আছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পুরোপুরি ব্যবহার কিন্তু আমরা করতে পারছিনা। এখানে বেশ সুযোগ আছে। দ্বিতীয় জনসংখ্যার বিষয়টি। আর তৃতীয়ত, আমাদের মতো দেশগুলোতে বিনিয়োগ পুরোপুরি সুরক্ষিত। 
দেশগুলোতে নিয়মতান্ত্রিকভাকে ও গঠনমূলকভাবে তিনি যখন ইচ্ছা ব্যবসা বন্ধ করতে পারবেন এবং মালিকানা তার শতভাগ থাকবে। অনেক দেশে এগুলো নেই। আর ইপিজেডে দেশের অর্থনীতির নীতির পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়। 



শ্রমিক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক নীতিমালা থাকে। আর বেপজা সেগুলো সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করে। যেটাতে শ্রমিক-বিনিয়োগকারী-সরকার সবাই সহনীয় পর্যায়ে থাকে। তাই বিদেশিরা দেখে দুটো জিনিস, আমার মূলধন এখানে সুরক্ষিত কিনা, নীতি মানা হয় কিনা এবং স্বাচ্ছন্দে ব্যবসা করতে পারছি কিনা। 

আমাকে অনেকে বলেছেন বাংলাদেশিরা অনেক আন্তরিক এবং অতিথিপরায়ন। মানুষের উপকার করতে চায়। অনেক বিদেশি আমার কাছে বলেছেন যে তাদের এই বিষয়টি আকর্ষিত করেছে। 

মাহমুদ মেনন: আপনি বারবারই প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলছেন। এর মধ্যে আমরা শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কী পরিমাণ প্রযুক্তি ট্রান্সফার করতে পেরেছি?

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য বাংলাদেশ অবকাঠামো ও তাত্ত্বিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে মন্ত্রীপরিষদ সচিব সভাপতি এবং সদস্য হিসেবে আমিও আছি। আমি ঠিক পার্সেন্টেজ দিতে পারবনা তবে বলতে পারি আমরা সে ধারাবাহিকতায় আছি। 

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যে এই প্রযুক্তি চালাবেন এমন জনশক্তি তৈরি করা আমাদের জন্য দূরহ। এ জায়গায় অনেক কিছু করার আছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির বেসটা তেমন শক্ত নয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই সরকার এ খাতে প্রণোদনা দিচ্ছে। 

মাহমুদ মেনন: আমরা জানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেপজার সরাসরি তত্বাবধান করেন। সরকার প্রধানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে যদি বলতেন!

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: বেপজা প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধিভুক্ত। এখানে দুটো কমান্ড সেটআপ আছে। যেখানে বোর্ড অব গভর্নর আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বোর্ড অব গভর্নরের সভাপতি এবং সদস্য হিসেবে আছেন ৯ জন মন্ত্রী। যারা বেপজার নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ও্ কর্মসংস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া ১১ জন সচিব থাকেন। আর আমি এক্সিকিউটিভ বোর্ডের চেয়ারম্যান। অর্থাৎ বোর্ড অব গভর্নরের সভায় যে সিদ্ধান্ত হয় তা আমি বাস্তবায়ন করি। বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান।


 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসলে সামগ্রিক দেশকে দেখেন। তিনি চান দেশের সুষম উন্নয়ন হোক। তিনি শ্রমিকদের বিষয়ে খুব বেশি খেয়াল রাখতে বলেন অর্থাৎ যাদের পরিশ্রমে এমন সাফল্য তাদের ক্ষেত্রে তিনি সমঝোতায় যেতে চান না। তিনি সবসময়েই শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলেন। 

আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী সোনার বাংলা নির্মাণে আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন তাতে দেশ অনেক উপকৃত হবে। বাংলাদেশে মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের কাজ কিন্তু প্রায় সমাপ্ত। এর বাইরে অনুন্নত জায়গাগুলোকে জাগিয়ে তোলার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন। 

বর্তমানে পটুয়াখালির পায়রার কাছাকাছি, যশোরের নোয়াপড়া ও রংপুরের গাইবান্ধাতে ইপিজেড হচ্ছে। আপনি এই তিন জায়গার ভৌগলিক অবস্থা চিন্তা করলে দেখবেন এখানে কোন ইন্ডাস্ট্রি নেই। জনসাধারণের কর্মসংস্থানের জন্য তেমন পরিবেশ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খুব স্বাচ্ছন্দে বেপজা কাজ করে থাকে এবং সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। কেননা বোর্ড অব গভর্নরসে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবরা থাকেন তাই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। এটাই বেপজার সাফল্যের রহস্য।  

মাহমুদ মেনন: আপনি বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরীর কথা বললেন। সেটা যদি আরও বিস্তারিত জানাতেন-

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরীতে আমাদের ১ হাজার ১৫০ একর জায়গা আছে। প্রস্তাবিত প্লট ৬১৮ টি। আমরা প্রত্যাশা করছি বিনিয়োগের পরিমাণ হবে চার হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলার । কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৫ লাখ। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি ৭০ টি শিল্প প্রতিষ্ঠানগোষ্ঠি আমাদের নিকট প্লটের জন্য আবেদন করেছে। আমরা প্রায় প্রস্তুত। করোনা পরিস্থিতি না থাকলে হয়তো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্লট হস্তান্তর করতাম। এখন পুরোদমে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ভবন নির্মানের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আনুষঙ্গিক সার্ভিস যেমন- বিদ্যুতের কাজ শেষ, গ্যাসের লাইন টানা শেষ, ডিপ টিউবওয়েলের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি বছরের শেষ শিল্প কারখানাগুলো তাদের অবকাঠামোগত কাজ শুরু করতে পারবে। 

প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়, একজন চীনা বিনিয়োগকারী জানিয়েছেন যশোরার নোয়াপাড়া পুরো ইপিজেড তিনি একাই নিবেন। 

মাহমুদ মেনন: আপনারকি কোন একটা ইপিজেড কাউকে একা বিনিয়োগ করতে দিতে রাজি থাকবেন?

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: না, এখানে আমাদের কতগুলো শর্ত থাকবে। প্রশাসনিক কোন বিষয় আমরা অন্য কারও হাতে হস্তান্তর করবো না। ও্খানে ইপিজেড অন্যান্যগুলোর মতো থাকবে। উনি প্লট নিবেন। কোন অসুবিধা নেই। উনি লেটার অব ইন্টেন্ডে চাওয়ার সময় বড় করে চেয়েছেন, তবে এখানে সরকারের স্বার্থ ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো যাতে ঠিক থাকে এবং প্রয়োজনীয় পণ্য যাতে উৎপাদিত হয় সেগুলো বিবেচনা করা হবে। উনি উনার মতো পণ্য বানাবেন সেটা তো আমরা হতে দিবনা। অর্থাৎ সরকারের ভিশন বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি আমরা কারও হাতে দিবনা। আমি শুধু আগ্রহের বিষয়টির জন্য এটা বলেছি। 

প্রধানমন্ত্রীর অধীন বেজা ও বেপজা দুটি কাজ করে। বেপজা হলো যেখানে শুধু রফতানি হবে। আর বেজা হলো বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন। বেপজায় কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই পণ্য রফতানি করতে  হবে। এখানে উৎপন্য ৯০ শতাংশ পণ্য রফতানি করতে পারবেন এবং কোন পণ্য সমস্যা দেখা দিলে কেবল ১০ শতাংশ দেশের বাজারে রাখতে পারবে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তিনি চান যত্রতত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠুক। তারচেয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প কারখান হবে। এগুলোর মধ্যে একটা শৃঙ্খলা চলে আসুক। 

মাহমুদ মেনন: আপনি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কি এমনটা হয়েছে যে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চাচ্ছে কিন্তু আপনারা দিতে পারছেন না। বা এমন কি বিষয় আছে যেখানে আমাদের আরও উন্নয়ন দরকার, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকে আরও আকর্ষিত করতে পারে। 

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম:অবশ্যই আছে। বাংলাদেশে নিয়মনীতির তো অভাব নেই, অভাব কেবল বাস্তবায়নের জায়গায়। বেপজা এককভাবে পুরো রফতানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেনা। এর সাথে কাস্টমস, বাংলাদেশ ব্যাংক জড়িয়ে থাকে। যে জায়গাতে আমরা পিছিয়ে আছি, সিদ্ধান্ত আমরা যা নেই তা বাস্তবায়ন পর্যায়ে ধীরে হয়। এছাড়া আরও কিছু বাজে সংস্কৃতি আছে যেখান থেকে বের হতে আমাদের আরেকটু সময় লাগবে। আশার কথা হলো ডিজিটাইলেশনের কারণে ফাইল ভিত্তিক যে ঝামেলা থাকে সেখান থেকে আমরা সরে আসতে পেরেছি। 

এখন কিন্তু আমাদের হেল্পলাইন আছে ১৬১২৮। যে কোন ব্যক্তি যে কোন প্রান্ত থেকে তাদের অসুবিধার কথা বলতে পারেন। সর্বমোট যদি বলি তাহলে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের আরও উন্নয়নের সুযোগ আছে এবং মধ্য পর্যায়ে আরও যোগ্য কর্মী প্রয়োজন যারা দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখবে এবং দেশের বিনিয়োগ ও গুরুত্বটা বুঝতে পারবে। 

মাহমুদ মেনন: সেরকম যোগ্য অফিসার তৈরির জন্য কি আপনারা কোন উদ্যোগ নিয়েছেন? বা এটা কোন পথে তৈরি হতে পারে? সেটা কি দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই হবে নাকি বিশেষ কোন যোগ্যতারও প্রয়োজন আছে?

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: আমরা সবাই জানি, যদি বীজ ভালো না হয় তাহলে ফল ভালো হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যথাযথ শিক্ষা একদম প্রাথমিক পর্যায় থেকে হতে হবে। শুরুতে যে দেশপ্রেম, সদা সত্য কথা বলা এবং নীতিতে থাকারে যে শিক্ষা দেয়া হয় তা যেনো পরবর্তী পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে সেটা ঠিক করতে হবে। একই সাথে যোগ্য লোক যাতে যোগ্য জায়গায় থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যখন কেউ নিয়োগ হবে তখন নিজের অবস্থার প্রেক্ষিতে তার একটা রেগুলার প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। 

আমি আপনার সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছি। একসময় আপনাদের সাংবাদিকতা এমন ছিল না। এভাবে পুরো বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে। একসময় ফাইলের যে হিসেব ছিল বা যেভাবে অংক করা হতো তা আর এখন নেই। সেগুলো শিখতে হবে, আয়ত্ব করতে হবে। তাই যথাযথ শিক্ষা, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও প্রশিক্ষণ থাকলে যোগ্য জনবল তৈরি সম্ভব। 



মাহমুদ মেনন: শিক্ষা-দক্ষতার পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতার বিষয়টিও নিশ্চয়ই রয়েছে। 

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: আমি নীতি-নৈতিকতার বিষয়টি শিক্ষার মধ্যেই আনতে চাই। সবাইকে মনে রাখতে হবে আর্থিক অবস্থা কাউকে বড় করে না। বড় করে তার কর্ম। এটা সবার মনে এবং চরিত্রে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

মাহমুদ মেনন: আমরা যে ইপিজেড তৈরি করছি তা বিশ্বের প্যাটার্নের সাথে আমাদের মিল আছে কিনা বা আমরা ভিন্ন কিছু করছি কিনা? বা তারচেয়ে অন্যরকম কিছু আছে কিনা যা আমরা গ্রহণ করতে পারি। 

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: আমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারছিনা কি নামে আছে তবে আমার কাছে যে তথ্য আছে সে অনুযায়ী ২০১৫-১৬ সালে বিশ্বে প্রায় চার হাজার ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন আছে । তবে আমি চীনে দেখেছি তবে সেগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণ অনেক লম্বা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় বেপজা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধীনে। অন্যান্য দেশে চিরাচরিত দাফতরিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে থাকেন। আমার কাছে ভারতীয় হাই কমিশনার এসেছেন। তিনি বলেন, ভারতেও ইপিজেড আছে কিন্তু সেগুলো মৃতপ্রায়। কারণ সেখানেও দাফতরিক প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি আমাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনেন। 

মাহমুদ মেনন: বিনিয়োগের সাথে তো অর্থ ট্রান্সফারের বিষয় থাকে। আমরা শুনতে পাই যারা ব্যবসা বা বিনিয়োগ করে থাকেন তারা অভিযোগ করেন অর্থ ট্রান্সফার ও কর প্রক্রিয়ায় সেখানে কিছুটা জটিলতা আছে। সেটা এখন কতটা সহজ করা গেছে এবং কেন এখনও অভিযোগ শোনা যায়?

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: আমরা বিনিয়োগ চাই, তবে অপেশাদার আচরণের মাধ্যমে না। আমরা বিনিয়োগ চাই তবে তা অবশ্যই দেশের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে। বিনিয়োগকারী সবসময় চায় বাড়তি কিছু সুবিধা আদায় করতে। আর সরকার নিজের স্বার্থ চায়। তাই এমনটা শোনা যায়। তাহলে প্রশ্ন করা যায় যদি করের এতই সমস্যা থাকে তাহলে বিনিয়োগ বাড়ছে কীভাবে। 

আমি বলছিনা বাংলাদেশে খুবই চমৎকার ব্যবস্থা। তবে অবশ্যই বলতে হবে দেশে প্রথম ক্যাটাগরির বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ দিতে পারছে। আমরা অবশ্যই অবস্থা উন্নয়ন করতে পেরেছি। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে আমরা করের বিষয়টি সহজ করেছি। ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ১৫৬ পণ্য আমরা কর ছাড় দেয়ার সুপারিশ করেছি। 

বিনিয়োগকারী যেভাবে চায় সেভাবে তো আমরা দিতে পারিনা। তাহলে আমার দেশ আগাবে না। আমার মনে হয় আগামী ৫০ বছরেও এমন অভিযোগ শেষ হবে না। আবার দেশের কারখানাগুলো কথাগুলোর কথাও তো চিন্তা করতে হবে। আমাদের সার্বক্ষণিক চিন্তা থাকে দেশীয় শিল্পগুলোকে সুযোগ করে দেয়া। তাই আমরা সব জায়গায় ছাড় দিতে পারিনা। 

মনে করুন কোন বিনিয়োগকারী অন্য দেশ থেকে কাঁচামাল বা কোন পন্য আনতে চান আর সেটা যদি উৎপাদনে আমার দেশের সক্ষমতা থাকে তাহলে তো কর কমিয়ে দিব না্। উল্টো বাড়িয়ে দিব। এমন অবস্থায় কর ছাড় দিলে কিছু লাভবান হওয়া যাবে। তবে স্থায়ীভাবে তা লাভ দিবে না। 

মাহমুদ মেনন: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি আসলে কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে?

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: অর্থনৈতিক কূটনীতি আলাদা কোন বিষয়না। এটা দেশের সামগ্রিক কূটনীতিরই একটি অংশ। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির যত আঙ্গিক আছে সেখানে অর্থনীতি অন্যতম। সব দেশের সাথে আমাদের ভূ-রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ভালো। আর এটাই বর্তমান অর্থনৈতিক সাফল্যের পিছনে কাজ করছে।  

মাহমুদ মেনন: পারস্পরিক শত্রু দুটি দেশ অনেক সময় বাংলাদেশে এসে একসঙ্গে কাজ করছে। এ বিষয়টি আপনারা কীভাবে সামলাচ্ছেন?

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: এটা খুব কঠিন একটা কাজ। আমরা এখানে সমতা রাখার চেষ্টা করি। আমরা কাউকে বড়ি করি না এবং কাউকে ছোট করি না। আমরা অতিরিক্ত সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করিনা। পুরোটা দেশের স্বার্থে বিবেচনা করা হয়। এখানে তাদেরও তো স্বার্থ আছে। বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক স্থানে আছে। বঙ্গোপসাগরের কাছে হওয়ায় রফতানি সুবিধার জন্যই তো বিনিয়োগ বাড়ছে। বাংলাদেশ খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে এসব বিষয়গুলো মোকাবেলা করে। 



মাহমুদ মেনন: কোন কোন ইপিজেড কেমন কাজ করছে এবং কোনটি সেরা। সে বিষয়টি একটু শুনতে চাই- 

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: আমি বলবো মঙ্গা উপদ্রুত এলাকা হিসেবে এক সময় পরিচিতি পাওয়া উত্তরবঙ্গে যে উত্তরা ইপিজেড (নীলফামারি) রয়েছে, সেটি সবচেয়ে ভালো করছে। উত্তরা ইডিজেডে গত এক দশকে ৩০ হাজার মানুষ কাজ পেয়েছে। অর্থাৎ ৩০ হাজার পরিবার দারিদ্র থেকে উঠে এসেছে। এর আবাসন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় তারা জড়িয়ে আছে। যদি প্রবৃদ্ধির হিসেবে বলি তাহলে উত্তরা ইপিজেডের অবদান অনেক বেশি। সেখানে আশেপাশের মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য এবং অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য আমার কাছে উত্তরা ইপিজেড সবচেয়ে এগিয়ে। 

মাহমুদ মেনন: দেশের রফতাণি পন্যগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক ছাড়া আর কোন সম্ভাব্য পণ্য নিয়ে আপনারা কাজ করছেন?

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: বর্তমানে বেপজায় ৩৮ টি দেশের বিনিয়োগ আছে।  এখানে ১৩৮ ধরণের পণ্য প্রস্তুত হয়। এখানে ৬ শতাংশ নিট গার্মেন্টস এবং বুনন পোশাকের ৩০ শতাংশ অর্থাৎ মোট ৩৬ শতাংশ মাত্র তৈরি পোশাক উৎপাদিত হয়। আর বাকি ৬৪ শতাংশ কিন্তু বিভিন্ন পণ্য। আর কোন পণ্য উৎপাদনের বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করি। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন যেনো বিনিয়োগ হয় তা মাথায় রাখা হয়্। 

এখানে চশমার ফ্রেম থেকে শুরু করে ফাইবার অপটিকাল কেবল, ফার্নিচার থেকে ব্যাগসহ ১৩৮ টি পণ্য তৈরি হয়। আমরা অর্থনীতির এমন শক্ত ভীতে দাঁড়িয়ে আছি যে, কোন পণ্য চাইলেই উৎপাদন করতে দিব না্। এখানে বায়ুদূষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখা হয় বৈশ্বিক চাহিদা। যেমন করোনা পরিস্থিতিতে আমার প্রায় ২২ টি প্রতিষ্ঠান মাস্ক, পিপিই বানাচ্ছে। আমরা গত জুন থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ১১ মিলিয়ন ডলার নেট লাভ করেছি। এখানে ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বিভাগ আছে, তারা বিশ্বে কোন পণ্যের চাহিদা কেমন তা বিচার করে জমা দেয়। এভাবে উৎপাদনের বিষয়গুলো ঠিক করি। 



মাহমুদ মেনন: আপনি তো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল। আর এখন কাজ করছেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। ভিন্ন একটা পরিবেশে কাজ করে কি মনে হচ্ছে? 

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: যদি প্যাশন না থাকে তবে এখানে কাজ করে সফল হওয়া সহজ নয়। আমি এর আগে চট্টগ্রামে ৫ বছরে ডিজিএফআই এর সঙ্গে কাজ করেছি। এখানে জয়েন করার আগে রংপুরের জিওসি ছিলাম দুই বছর। তাই দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো সম্পর্কে আমি অবগত। 

আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজটাকে খুবই পছন্দ করছি। আমি চাই আমার কাজে দেশ উপকৃত হোক। এখানে নেতৃত্বের পরিপূর্ণ জায়গা আছে। এখানে যুদ্ধের কৌশল ভিন্ন ফরম্যাটে ব্যবহারের সুযোগ আছে। 
মাহমুদ মেনন- আমাদের আলোচনায় বেশ কয়েকবারই শ্রমিকদের কথা উঠে এসেছে। জানতে চাই ইপিজেডগুলো কতটা শ্রমিকবান্ধব হয়ে উঠতে পেরেছে?
নজরুল ইসলাম- বেপজা কখনই এই জায়গায় ছাড় দেয় না। গত ১০ বছরে তিনবার বেপজায় শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। এখন একজন নতুন কর্মীর সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২০০ টাকা। অন্যান্য হিসেব মিলে মাসে সে ১৫-১৬ হাজার টাকা পেয়ে যায়। 



কাজের পরিবেশের কথা বললে- করোনা পরিস্থিতিতে সবকিছু যাচাইয়ে প্রতি দুটি প্রতিষ্ঠানে আমাদের একজন ইন্সপেক্টর আছেন। মোট ৫৩২ টি ইন্ডাস্ট্রির জন্য আমরা ইন্সপেক্টর সংখ্যা ৩০০। যে কেউ দেখতে গেলে সেখানের পরিবেশ দেখে খুশি হবেন। প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা তাদের কর্মীদের খাবার দেয়। আর যাতায়াতের জন্য কারখানার নিজস্ব যানবাহন থাকে বা তারা ভাড়া নেয়। কোন শ্রমিক অসুস্থ হলে ২৪ ঘন্টার স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র আছে। সেখানে ওষুধসহ সবকিছু ফ্রি। শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ইপিজেডেই স্কুল আছে যেখানে তারা অর্ধেক বেতনে তাদের পড়াতে পারবেন। 

বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক অবস্থা তাতে সবকিছু সম্ভব নয়। তবে আমি খুবই খুশি। আমাদের যে অর্থনৈতিক সামর্থ আছে সে অনুযায়ী আমার মনে হয় শ্রমিকদের জন্য সবকিছু করা হয়েছে। আর আমাদের হেল্পলাইন তো আছেই। কোন শ্রমিক তার অধিকার পাচ্ছেন না মনে হলে ২৪ ঘন্টাই কল দিতে পারে। সেগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়। 

মাহমুদ মেনন: বেপজার শ্রমিকবান্ধব ভূমিকার কথা আমরা প্রায়শঃই খবরে দেখতে পাই, আপনার মুখ থেকে শুনে আরও ভালো লাগছে। শ্রমিকরা ভালো থাকলেই কারখানা ভালো থাকবে। শিল্প তথা অর্থনীতির অগ্রগতি হবে। এজন্য আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে ইপিজেডকে এবং তারও মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপরাজেয় বাংলার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। 

মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম: আপনাকে এবং অপরাজেয় বাংলাকে ধন্যবাদ বেপজার কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। 

Dutch-Bangla Bank
TELETALK
খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত